নিহত আবদুল হাকিমের স্ত্রী রিমা খাতুনের অভিযোগ, গতকাল বেলা সোয়া তিনটার দিকে আবদুল হাকিম ঈশ্বরদী পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ শেষে বাড়ি ফেরেন। এ সময় তাঁর বাবা আজিজুর রহমান এক ব্যক্তিকে জমি ইজারা দেওয়া নিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে ঝগড়া করছিলেন। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আজিজুর তাঁর ব্যাগে থাকা হাঁসুয়া বের করে হাকিমের গলায় কোপ দেন। তিনি (রিমা খাতুন) বাধা দিতে গেলে তাঁকেও কোপান। হাঁসুয়ার কোপে তাঁর বাঁ হাতের কবজি কেটে গেছে। আশপাশের লোকজন দুজনকে উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক হাকিমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত গৃহবধূ একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক হাসানুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসার আগেই আবদুল হাকিমের মৃত্যু হয়েছে। গলায় হাঁসুয়ার কোপে রক্তনালি কেটে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়। আহত গৃহবধূ রিমা খাতুন চিকিৎসাধীন।

হাকিমের শাশুড়ি উপজেলার এবি ইউনিয়নের বরমহাটি গ্রামের আসেনারা বেগম ও শ্বশুর আবদুর রহিম জানান, ২০১১ সালে আবদুল হাকিমের সঙ্গে তাঁদের মেয়ে রিমার বিয়ে হয়। তাঁদের পায়েল (১১) ও পান্না (৭) নামের দুই সন্তান আছে।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহা. মনোয়ারুজ্জামান বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে বড় সন্তান হাকিম তাঁর বাবা আজিজুর রহমানকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। প্রায় ছয় মাস ধরে স্থানীয় ওয়ালিয়া বাজারে নিজের দরজির দোকানেই থাকতেন আজিজুর। গতকাল দোকান থেকে বাড়িতে গিয়ে কথা–কাটাকাটির একপর্যায়ে ঘটনাটি ঘটে।

ওসি মনোয়ারুজ্জামান আরও বলেন, এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। এর পরপরই আজিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছেলেকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন তিনি। তাঁকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছে। আদালতের সামনে তিনি দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেবেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন