বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এই কারখানায় আগুন লাগে। কারখানাটির আশপাশে অনেক আবাসিক এলাকা ও দোকানপাট। সেখানেও আতঙ্ক দেখা দেয়। জোবেদা বেগম থাকেন একটু দূরের এক বাসায়। জোবেদার আগে তাঁর স্বামীও ছেলেকে খুঁজতে ঘটনাস্থলে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকদের কাছে জানতে চান হৃদয় সম্পর্কে। কিন্তু কেউ কোনো খোঁজ দিতে পারেননি।

default-image

বিকেল পাঁচটার দিকে কারখানা থেকে দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। দগ্ধ একজনকে শনাক্ত করা গেছে। তাঁর নাম রনি (১৬)। কিন্তু অপর লাশটি শনাক্ত করা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস বলছে, ওই লাশই হয়তো হৃদয়ের। ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন সিকদার বলেন, ‘একজনকে শনাক্ত করেছে। কিন্তু অপরজনকে শনাক্ত করা যায়নি।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই কারখানার দোতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। স্টিলের অবকাঠামোর দ্বিতল কারখানাটিতে এ সময় দুই শতাধিক শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে শ্রমিকেরা জানান।

এদিকে এক নারী শ্রমিককে আহত অবস্থায় পাওয়া যায় একটি ওষুধের দোকানে। তাঁর পায়ে ফোসকা পড়েছে। তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তাঁর চোখেমুখে ছিল আতঙ্ক।

‘আমি ছিলাম দোতলায়। কাজ করছিলাম। আমাদের পাশের কক্ষটিতে গদির কাজ হয়। এ সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। তারপর দেখি চারদিকে আগুন। পরে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। সবাই সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে থাকে। আমি পড়ে যাই। তখন কে যেন আমাকে টেনে তোলে। এরপর আমি নামতে পারি।’ বলছিলেন ওই নারী শ্রমিক। একটু থেমে তিনি আবার বলেন, ‘রনি ছেলেটা চা আনত। হৃদয়ও দোতলায় ছিল। সে ওয়েল্ডিংয়ের (ঝালাই) কাজ করত। তার ভাগ্যে কী ঘটেছে জানি না।’

আহত এই নারীকে প্রথমে খুঁজে না পেয়ে কান্না করছিল তাঁর কিশোরী মেয়ে। পরে ওষুধের দোকানে মাকে খুঁজে পেয়ে মেয়েটি হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। মা–মেয়ে দুজনের চোখেই পানি। আতঙ্ক ও ভয় ছাপিয়ে এ কান্না নতুন জীবন পাওয়ার আনন্দের।
কিশোরী মেয়েটি মাকে খুঁজে পেয়েছে ঠিকই। কিন্তু হৃদয়ের মা জোবেদা বেগম তখনো খুঁজে ফিরছিলেন প্রাণপ্রিয় ছেলেকে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন