বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ মঙ্গলবার দুপুরে চটি গ্রামে আনেস আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আনেস আলী চুপ করে বসে আছেন। পাশে শোকে পাথর হয়ে বসে আছেন রুহুল আমিনের স্ত্রী শামীমা বেগম (২৫)। মায়ের কোলে বসে কেঁদেই যাচ্ছে দেড় বছরের মেয়ে নূরী। দাদার কোলে নির্বাক বসেছিল সাত বছরের সুমাইয়া খাতুন।

আনেস আলী ও তাঁর বড় ছেলে আবদুল কুদ্দুসের (৩৮) সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের আমলাপাড়ায় একটি হাউজিং কোম্পানির ভবনে রাজমিস্ত্রির কাজ করছিলেন রুহুল আমিন। সোমবার তিন তলার কাজ করতে গিয়ে মাচা থেকে পড়ে আহত হন তিনি। সঙ্গীরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত নয়টার দিকে মারা যান তিনি। সকাল সাতটার দিকে ঢাকা থেকে লাশ আসে বাড়িতে। বেলা সাড়ে ১১টায় গ্রামের গোরস্তানে মা ও ছেলেকে পাশাপাশি দুটি কবরে দাফন করা হয়।

আনেস আলী জানান, মটরী বেগম অসুস্থ ছিলেন। এক বছর ধরে কণ্ঠনালির সমস্যায় ভুগছিলেন। এ জন্য কথা বলতেও সমস্যা হতো। লাঠিতে ভর করে চলাফেরাও করতেন। ছেলের দুর্ঘটনার খবর পেয়েই অস্থির হয়ে পড়েন। সারা দিন অস্থির হয়েই ছিলেন। ছেলের মৃত্যুর খবর প্রথমে জানানো হয়নি। কিন্তু মসজিদের মাইকে মৃত্যুর খবর শুনে আরও বেশি অস্থির হয়ে পড়েন। শ্বাসকষ্ট বেড়ে গিয়ে হাঁপাতে থাকেন। ২০ মিনিটের মাথায় মারা যান তিনি।

আনেস আলী বলেন, ‘আর দু-চার দিন বাদেই ব্যাটা হামার বাড়ি আসতোক। বহু-বেটি, বাপ-মার ল্যাগা ঈদের কাপড়-চোপড় লিয়্যা আসতোক। দুই দিন আগেই মোবাইল ফোনে বহুকে (শামীমা বেগম) এগল্যা কহ্যাছিল। সে ব্যাটা হামার লাশ হয়্যা আসলো। ব্যাটার শোকে মা–ও দুনিয়্যা ছ্যাইড়্যা চল্যা গ্যালো। এত বড় শোকতো হামরাকে সহিতেই হোইবে। কিন্তু ব্যাটাবহু ও পুতিনদের লিয়্যা দিন চলবে ক্যামন কইর‍্যা সেটা লিয়্যাই এখন বড় চিন্তা। বহুটা আবার পুয়াতি (অন্তঃসত্ত্বা)।’

নিহত রুহুল আমিনের সঙ্গে একই ভবনে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন একই গ্রামের মনিরুল ইসলাম (৪৫)। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর রুহুল আমিনকে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যান। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পাঠানো হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে বিদ্যুতের স্পর্শে পিঠের কাছে পুড়ে যাওয়া স্থানে ব্যান্ডেজ করে পাঠিয়ে দেওয়া হয় আবারও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এখানকার চিকিৎসক তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তির পরামর্শ দেন। কিন্তু সেখানে সিরিয়াল পাওয়া যায়নি। তার আগেই রাত নয়টার দিকে তিনি মারা যান।

ঝিলিম ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। পরিবারটি খুবই গরিব। রুহুল আমিনের অবর্তমানে ওই পরিবারের পেট চালানো খুবই কঠিন হয়ে পড়বে। পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো উচিত। আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করব।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন