উজুলী দীঘিরপাড় গ্রামের বৃদ্ধাশ্রমে চার মাস ধরে থাকছেন সাথী আক্তার। তাঁর বাবার গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার চালাকচর গ্রামে। স্বামীর বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুরে। মেয়ের পাঁচ ও ছেলের চার বছরের মাথায় স্বামী আয়ু মিয়া মারা যান। এরপর স্বামীর প্রথম স্ত্রীর পক্ষের সন্তানেরা বাড়ি থেকে বের করে দেন সাথীকে।

এই প্রতিবেদককে সাথী আক্তার বলেন, এরপর বাবার বাড়ি মনোহরদীতে চলে যান। একটা সময় মা–বাবার মৃত্যুর পর তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার কেউ ছিল না। পরে চাকরি শুরু করেন ঢাকার একটি পোশাক কারখানায়। সেই আয় দিয়ে সন্তানদের বড় করেন তিনি।

বছর দুয়েক আগে চোখের সমস্যা শুরু হলে চাকরি হারান সাথী আক্তার। আশ্রয় নেন জামাতার বাড়িতে। চার মাস পরে সে বাড়িও ছাড়তে হয় তাঁকে।

সাথী আক্তার বলেন, মেয়েকে অনুরোধ করেছিলেন তাঁকে যেন বৃদ্ধাশ্রমে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। কিন্তু মেয়ে সে দায়িত্ব নিতে চায়নি। আবার বাবার বাড়ি মনোহরদীতে ফিরে নিজের অবস্থার কথা জানান দূরসম্পর্কের এক চাচিকে। পরে তাঁর সহযোগিতায় সাথীর ঠিকানা হয় কাপাসিয়ার বৃদ্ধাশ্রমে।

বৃদ্ধাশ্রমে আসার পর মুঠোফোনে একবার ছেলের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয় সাথী আক্তারের। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, সেদিন ছেলের কণ্ঠ শুনে অনেক কেঁদেছেন। নিজের দুরবস্থার কথা জানিয়েছেন। ওই দিনের আলাপের পর ছেলে আর যোগাযোগ রাখেনি।

সাথী আক্তারের ভাষ্য, ছেলের স্ত্রী চায় না তিনি তাঁদের সঙ্গে থাকেন। তাই বাড়িতে যেতেও নিষেধ করেছেন। সাথী বলেন, ‘মনে যত কষ্টই থাকুক, সন্তানের লাইগগা বদদোয়া করি না। তাগর সুখ চাই সব সময়। তয় সন্তানদেরও ভাবা দরকার মায়েরও মন আছে, কান্দার দুই খান চোখ আছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন