সাফারি পার্কের সিংহ বেষ্টনীতে নদীর জন্ম, বয়স হয়েছিল ১৫ বছর। একই বেষ্টনীতে ২২ বছর বয়সী আরেক সিংহ সোহেলের সঙ্গে ১১ বছরের সংসার ছিল নদীর। তাদের সংসারে জন্ম নেয় টুম্পা (১০) ও সম্রাট (৯) নামের দুই সন্তান। সোহেলের প্রথম সংসার ছিল হীরা নামের একটি সিংহীর সঙ্গে। হীরার পেটে জন্ম রাসেলের (১৫)। রাসেলকে রেখে বেষ্টনীতে মারা যায় হীরা।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, শুক্রবার সকালে অসুস্থ নদী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এরপর ময়নাতদন্ত শেষ করে পার্কের অভ্যন্তরে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। এ ঘটনায় চকরিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নদী, টুম্পা, সম্রাট ও রাসেলকে রেখে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয় সোহেল। আজকে টুম্পা, রাসেল ও সম্রাটকে রেখে চলে গেল নদী। এখন ৭৫ একরের সিংহ বেষ্টনীতে আছে তিনটি সিংহ—টুম্পা, রাসেল ও সম্রাট।

পার্ক কর্মকর্তারা বলেন, ২০০৪ সালে ৪ বছর বয়সী সোহেলকে এই পার্কে আনা হয়েছিল। সোহেলের সঙ্গে এই বেষ্টনীতে নদীর কেটেছে টানা ১১ বছর। সোহেলের মৃত্যুর পর পশুগুলোর আক্রমণাত্মক আচরণ ও মনোভাব লক্ষ করা গিয়েছিল। প্রায় সময় একে অপরের ওপর আক্রমণ করত, চালাত ঝগড়াঝাঁটি। যদিও বার্ধক্যের কারণে সোহেলের মৃত্যু হয়েছিল। এখন নদীর মৃত্যুর পর সম্রাট, রাসেল আর টুম্পার আচরণ কেমন হয়, দেখার বিষয়।

পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন হাতেম সাজ্জাত মো. জুলকার নাইন বলেন, অসুস্থ সিংহীর (নদীর) উন্নত চিকিৎসার জন্য একাধিকবার মেডিকেল বোর্ড বসানো হয়। সিরাম ও রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে সিংহীর শরীরে ‘ভাইরাল ইনফেকশন’ পাওয়া গেছে। যার লক্ষণ ভালো না। চিকিৎসার জন্য ১ এপ্রিল মেডিকেল বোর্ড সিংহীকে অচেতন করেছিল। সিংহীর চেতনা ফিরে আসতে সময় লেগেছিল প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। গত ২৭ মার্চ থেকে সিংহী পানি ছাড়া অন্য খাবার মুখে তুলছিল না।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুপন নন্দী বলেন, স্বাভাবিক অবস্থায় সিংহ বাঁচে ১৫ থেকে ১৮ বছর। সাফারি পার্কে মরে যাওয়া সোহেলের বয়স ছিল ২২ বছর। নদীর বয়সও ১৫ বছর অতিক্রান্ত।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন