default-image

দেড় বছর পার হয়েছে। শিশুসন্তান সাব্বির হোসেন হত্যার বিচার চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেছেন দরিদ্র মা আন্না বেগম। তিনি থাকেন নড়াইল পৌরসভার বিজয়পুর গ্রামের বাবার বাড়িতে। এক ছেলে ও এক মেয়ের সংসার চালাতে কখনো ভ্যানগাড়ি চালিয়েছেন তিনি। আবার কখনো সবজি ও ফলমূল বিক্রি করেছেন।

ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নড়াইল প্রেসক্লাবের সামনে ব্যানার নিয়ে দাঁড়ান আন্না বেগম। এ সময় তাঁর শিশুকন্যা রোকসানা ছাড়া আর কেউ পাশে ছিলেন না।

বিজ্ঞাপন

সাব্বির হোসেন উজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল। মায়ের কষ্টের কথা ভেবে সে স্কুল ছুটির পর নিজে ভ্যান চালাত। গত বছরের ১৫ মার্চ বিকেলে ভ্যানগাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় সাব্বির। কিন্তু আর সে ফিরে আসেনি। দুদিন পর নড়াইল-গোবরা সড়কের কাড়ারবিলের একটি ডোবা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সাব্বিরকে হত্যা করে তার ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়িটি ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরে ১৯ মার্চ কারও নাম উল্লেখ না করে সদর থানায় মামলা করেন আন্না বেগম। মামলার অগ্রগতি না দেখে তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আরমিন বলেন, ‘মামলাটি আমরা চার মাস পর হাতে পাই। তখন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়। পরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে আনা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দোষীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। অধিকতর তদন্তের স্বার্থে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

বিজ্ঞাপন

আন্না বেগম জানান, ১৮ বছর আগে কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের খড়ড়িয়া গ্রামের শাহাদাত হেসেনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিবাহ হয়। পরে শ্বশুরবাড়ির লোকদের নিযার্তনে স্বামীর ঘর ছেড়ে তিনি সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। সন্তানদের বাঁচাতে তিনি ভ্যানগাড়ি চালিয়েছেন, কখনো সবজি ও ফলমূল বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। আমার কেউ নেই বলে আমার সন্তান হত্যার বিচার পাচ্ছি না। এখানে আমার সঙ্গে গ্রামের কেউ আসেননি। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন