বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মা আমেনা আক্তার বলেন, আরিয়ানের বাবা খলিলুর রহমান পাঁচটি বিয়ে করেছেন। সেই সংসারে টিকতে না পেরে আরিয়ানকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে আসেন তিনি। বাবার ঘরে সৎমা থাকায় নানা লাঞ্ছনা-বঞ্চনা সহ্য করতে হয় তাঁকে। এ জন্য আমেনার বাবা মো. শাইখুল ইসলাম মেয়ে ও নাতির জন্য নিজের ঘরের সামনে একটি টিনের ছাপড়া তৈরি করে দেন। তবে সেখানে কোনো বিদ্যুৎ বা রান্নাঘর নেই। মানুষের বাড়িতে কাজ করে এবং চেয়েচিন্তে ছেলেকে নিয়ে খেয়ে–না খেয়ে দিন কাটে তাঁর।

আমেনা আক্তার আরও বলেন, ‘প্রথম আলোর এক সাংবাদিক ভাইয়ের সঙ্গে আল্লাহ আমার বাচ্চাটাকে দেখা করায় দিছে। প্রথম রোজার দিন থাইকেই আমার ঘরে একটা খাবার চালও ছিল না। আমরা ঠিকঠাক খেতে পারিনি। সাংবাদিকের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর ওই রাতে আমার ছেলে খাবার নিয়ে বাড়িতে ফেরে। ছোটবেলা থেকে মা না থাইকে অনেক কষ্ট করিছি। যাদের সব আছে, দোকান আছে, ঘের-বেড়ি আছে, যাদের বাড়ির হাঁস-মুরগির ঘর আমাদের থাকার ঘরের চেয়ে বড়, তারা অনুদান পাচ্ছে। কিন্তু আমরা পাইনি।’

বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নাছির উদ্দিন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আরিয়ানের সংবাদটা দেখে তাৎক্ষণিক বাগেরহাট-২ আসনের সাংসদ শেখ তন্ময়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁর নির্দেশে আমরা আরিয়ান ও তার মায়ের জন্য নতুন পোশাক কিনেছি। প্রয়োজনীয় খাদ্যসহায়তা নিয়ে এসেছি। শিশুটি পছন্দ করে তার মায়ের জন্য শাড়ি কিনেছে। আজ সে মায়ের হাতে সেই শাড়ি তুলে দিয়েছে। আমরা তাদের কথা শুনেছি। যে সমস্যাগুলো আছে, অবশ্যই সেগুলোর সমাধান করা হবে।’

default-image

ইউএনও মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথম আলোতে আরিয়ানের সংবাদ প্রকাশের পর আমাদের সংসদ সদস্য মহোদয়, জেলা প্রশাসক, উপজেলা চেয়ারম্যান সবাই পরস্পরের সঙ্গে কথা বলেছি। সরকারিভাবে আমরা তাদের জন্য শুকনো খাবার পৌঁছে দিয়েছি। একইসঙ্গে তাদের পারিবারিক অবস্থা দেখলাম আমরা। অনেকেই তাদের সহযোগিতা করতে চাচ্ছেন। এ জন্য আমরা আরিয়ানের নামে একটি ব্যাংক হিসাব খুলে দেব। এ ছাড়া আরিয়ানের লেখাপড়া ও মায়ের কর্মসংস্থানের জন্য যে প্রস্তাবগুলো আছে, তাদের সঙ্গে কথা বলে সে বিষয়ে উদ্যোগ নেব। পাশাপাশি তাদের স্থায়ী বাসস্থানের জন্যও উদ্যোগ নেব।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন