ছয় ঘণ্টা পর মায়ের সামনে বটগাছে ঝুলন্ত ছেলের লাশ নামাল পুলিশ

সরাইলে উত্তর কুট্টাপাড়া জাঙ্গাল কবরস্থানে বটগাছে ঝুলন্ত ছেলের লাশের নিচে মা তাসলিমা বেগমের আহাজারি। ছবিটি সোমবার দুপুর পৌনে ১২ টার দিকে তোলা
ছবি: প্রথম আলো

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের নির্জন কবরস্থানে বটগাছ থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ অবশেষে নামিয়েছে পুলিশ। আজ সোমবার সকাল ছয়টার দিকে উপজেলা সদরের উত্তর কুট্টাপাড়া জাঙ্গাল কবরস্থানে লাশটিকে ঝুলতে দেখেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। খবর পেয়ে পুলিশ দেড় ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও লাশ নামায়নি। এরপর ওই যুবকের পরিবারের সদস্যরা পৌঁছালে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে লাশটি নামানো হয়। দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা ঝুলন্ত লাশ দেখতে ভিড় করেন কয়েক শ মানুষ। এ কারণে সকাল থেকে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

ওই যুবকের নাম সোহরাব হোসেন (৩০)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রসুল্লাবাদ ইউনিয়নের কালঘরা গ্রামের বাসিন্দা। লাশ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন তাঁর মা তসলিমা বেগম। তিনি বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলেন।

তসলিমা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, দুই বছর আগে তাঁর ছেলে বিয়ে করেছিল। ছয় মাস পর তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। আগে সোহরাব বেকারির ব্যবসা করত। এক বছর ধরে বেকার। গত শুক্রবার দুপুরে কাজের খোঁজে চট্টগ্রামে যাবে বলে ঘর থেকে বের হয় সোহরাব। সেদিন বিকেল থেকেই তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এক বছর ধরে বেকার থাকার কারণে সোহরাব মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে বলে জানান তাসলিমা বেগম।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন দুপুর ১২টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, স্বজনদের উপস্থিতির জন্য ঝুলন্ত লাশ নামাতে দেরি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এটিকে আত্মহত্যাই মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।