বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আবদুল হাই ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার ধান্যহাড়িয়া গ্রামের মোসলেম আলীর ছেলে। ছয় ভাইয়ের মধ্যে তিনি চতুর্থ।

আবদুল হাই বলেন, তিনি ২০০৮ সালে ২৭ শতক জমি বিক্রি করে সৌদি আরব যান। তখন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের যশোরের চৌগাছা শাখায় একটি হিসাব খোলেন। ব্যাংক থেকে কোনো চেক বই উত্তোলন করেননি। বিদেশ থেকে তিনি ওই ব্যাংক হিসাবে ২০১০ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ৫ মে এর মধ্যে ৭ দফায় প্রায় ৫ লাখ টাকা পাঠান। ২০১৫ সালে তিনি দেশে ফিরে ব্যাংক থেকে চেক বই উত্তোলন করেন। সেই চেক জমা দিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, তাঁর হিসাবে কোনো টাকা নেই।

আবদুল হাই ব্যাংক হিসাবের লেনদেন তথ্য উত্তোলন করে দেখতে পান, ২০১২ সালের ১৪ আগস্ট থেকে ২০১৩ সালের ১৭ জুন পর্যন্ত ৮টি চেকের মাধ্যমে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৩৬৮ টাকা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আবদুল হাই আরও জানান, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, তাঁর এক ভাই জালিয়াতি করে চেক বই উত্তোলন করে টাকা উঠিয়ে নিয়েছেন। তারা ভাইয়ের সঙ্গে সমঝোতা করার জন্য বলে দায়িত্ব শেষ করেছে। এই কাজে তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে ব্যাংকের কর্মকর্তারাও জড়িত। টাকা ফেরতের জন্য তিনি ইসলামী ব্যাংকের ঢাকা অফিস পর্যন্ত গেছেন। লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। অবশেষে তিনি ২০২০ সালে যশোর আদালতে একটি মামলা করেন।

মামলায় দুজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ইসলামী ব্যাংক যশোরের চৌগাছা শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক (সাবেক) শরিফুল ইসলাম ও একই শাখার সাবেক জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান।

ওই শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম বলেন, অপরাধ করেছেন তাঁর (আবদুল হাই) ভাই। আবদুল হাইয়ের স্বাক্ষর জাল করে এই টাকা ওঠান, যা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের চোখে ধরা পড়েনি। তবে তাঁরা বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই যশোর কার্যালয়ের এসআই গৌতম কুমার বলেন, তিনি আদালতের নির্দেশ পেয়ে মামলাটির তদন্ত শেষ করেছেন। আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী রবিউল ইসলাম জানান, তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে, এটা তিনি শুনেছেন। তবে করোনার কারণে আদালতের বিচারকাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় মামলাটির তারিখ এখনো ধার্য হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন