বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে সাড়ে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এমআরআই যন্ত্র, ২০১৩ সালে ১০ কোটি ৬৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয়ে সিটি স্ক্যান যন্ত্র এবং ২০১৪ সালে ১০ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ডিজিটাল এক্স-রে যন্ত্র ক্রয় করা হয়। এসব যন্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হলো লেক্সিকন। এর মধ্যে এমআরআই যন্ত্রটি চালু করার মাত্র ৮ মাস পর এর হিলিয়াম গ্যাস শেষ হয়ে যায়। সেই থেকে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে যন্ত্রটি।

অন্যদিকে সফটওয়্যার নষ্ট হওয়ার কারণে ডিজিটাল এক্স-রে যন্ত্রটি প্রায়ই অকেজো থাকে। গত বছরের জানুয়ারিতে এক্স-রে যন্ত্রটি মেরামত করা হয়। কিন্তু কিছুদিন পর তা আবার নষ্ট হয়। ৬ মাস অকেজো থাকার পর পুনরায় ৮ জুলাই চালু করা হয়। হাসপাতালে দক্ষ টেকনোলজিস্ট থাকার পরও তাঁরা শুধু এসব যন্ত্র চালাতে পারেন। কিন্তু যন্ত্রের ত্রুটি চিহ্নিত ও মেরামত করতে পারেন না। ফলে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অতিরিক্ত টাকা খরচ করে তাঁদের খুলনা অথবা ঢাকায় যেতে হচ্ছে। এই ব্যয়ভার বহন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের। চিকিৎসার অভাবে অনেক রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

মূলত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লেক্সিকন নিম্নমানের যন্ত্র সরবরাহ করে। সে জন্যই যন্ত্রগুলো দ্রুত সময়ে নষ্ট হয়েছে।
অসিত কুমার মল্লিক, হাসপাতালের সহকারী পরিচালক

গত রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় দেখা যায়, হাসপাতালের পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় এক্স-রে কক্ষের সামনে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন রোগীরা। ডিজিটাল এক্স-রে যন্ত্রটি অকেজো থাকায় ভ্রাম্যমাণ (রিচার্জেবল) এক্স-রে যন্ত্র দিয়ে প্রতিদিন মাত্র ১০-১৫টি এক্স-রে করা হচ্ছে। অথচ হাসপাতালে প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ জন রোগী এক্স-রে করতে আসেন। অধিকাংশ রোগী এক্স-রে না করতে পেরে বিভিন্ন ক্লিনিকে গিয়ে উচ্চমূল্যে এক্স-রে করছেন। আবার কেউ কেউ পড়ছেন দালাল চক্রের খপ্পরে।

এক্স-রে কক্ষের উত্তর দিকে রয়েছে সিটি স্ক্যান যন্ত্রের কক্ষ। ওই কক্ষটি বন্ধ রয়েছে, পাশের কক্ষে দুজন টেকনোলজিস্ট বসে আছেন। জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিন পর সিটি স্ক্যান যন্ত্রটি চালু হয়েছে। এক্স-রে যন্ত্র নষ্ট আছে, এখন একটা ভ্রাম্যমাণ যন্ত্র (চার্জার) দিয়ে এক্স-রে করা হচ্ছে। তবে এক্স-রে যন্ত্র দিয়ে দৈনিক ৮-১০টির বেশি এক্স-রে করা যাচ্ছে না। সেখানে প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ জন রোগী আসেন এক্স-রে করাতে।

সদর উপজেলা ঘোষেরচর গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসার সেফালি খানম (৫০) বলেন, ‘দুদিন আগে পড়ে গিয়ে আমার ডান হাতে চোট লাগে। এখন হাত একেবারে নাড়াতে পারছি না। ডাক্তারের কাছে এলে আমাকে এক্স-রে করতে বলেন। দুদিন ধরে হাসপাতালে এসে এক্স-রে করাতে পারিনি। বাধ্য হয়ে বাইরের ক্লিনিক থেকে ৮০০ টাকা দিয়ে এক্স-রে করিয়েছি। হাসপাতালে ১৫০ টাকায় এক্স-রে করাতে পারতাম।’

গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের সহকারী পরিচালক অসিত কুমার মল্লিক বলেন, ‘অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকা সিটি স্ক্যান যন্ত্রটি ৮ জুলাই চালু হয়েছে। অন্য যন্ত্রগুলো মেরামতের জন্য বারবার ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারকে চিঠি দিই। এ ছাড়া বিষয়ে মহাপরিচালককে (স্বাস্থ্য) অবহিত করি। মূলত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লেক্সিকন নিম্নমানের যন্ত্র সরবরাহ করে। সে জন্যই যন্ত্রগুলো দ্রুত সময়ে নষ্ট হয়েছে।’ তিনি বলেন, সরবরাহের কিছুদিন পরই এক্স-রে যন্ত্রটির সফটওয়্যার নষ্ট হয়ে যায়। পাঁচ মাস আগে একজন ইঞ্জিনিয়ারকে এনে সফটওয়্যার ঠিক করলেও কিছুদিনের মধ্যে তা পুনরায় নষ্ট হয়ে যায়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন