default-image

সিলেটের জকিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে। শনিবার সকালে সুশৃঙ্খলভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট শুরু হলেও দুপুর গড়িয়ে বিকেলের দিকে কয়েকটি কেন্দ্রে হঠাৎই হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে।

এ সময় ভোটারদের উপস্থিতি কমলেও কোনো কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত কিংবা বন্ধ থাকার ঘটনা ঘটেনি। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাদমান সা‌কিব।

পৌরসভার বিএনপি-মনোনীত প্রার্থী ইকবাল আহমদ তপ‌াদার বেলা দুইটার দিকে নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে বলে জানালেও বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তিনি বলেন, পৌরসভার কয়েকটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস‌্যরা হঠাৎই আতঙ্ক ছড়িয়েছেন। এ সময় সরকারদলীয় প্রার্থীর হয়ে ভোট কারচুপির ঘটনা ঘটে থাকতে পা‌রে।

পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রে ভোটার সংখ‌্যা ছিল ১২ হাজার ৩৩৮। ৯টি ওয়ার্ডে মেয়র পদে ৮ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৩ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

বিজ্ঞাপন

শ‌নিবার সকাল থেকে পৌরসভার ৯টি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোটারদের দীর্ঘ সারি। নারী ও পুরুষদের জন‌্য আলাদা সারি ছিল। বেলা একটার দিকে পৌরসভার এক্সিলেন্ট একাডেমি কেন্দ্রে ১ হাজার ৩৭১টি ভোটের মধ্যে ৫ শতাধিক ভোট পড়েছে বলে জানান কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. আলী উসমান। পঙ্গবট সরকা‌রি প্রাথমিক বিদ‌্যালয় কেন্দ্রে বেলা ১১টার দিকে ১ হাজার ২৭ ভোটের মধ্যে ৩ শতাধিক ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বলে জানান কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সামছুল ইসলাম। বেলা দেড়টার দিকে আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেন স্কুল কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. হা‌বিবুল্লাহ বাহার বলেন, ১ হাজার ৩৩৬ ভোটের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

বেলা আড়াইটা পর্যন্ত কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল। তবে বেলা তিনটার দিক থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস‌্যদের কয়েকটি যানবাহন একসঙ্গে টহল দিতে দেখা গেছে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস‌্যরা হুইসেল ও বাঁশি বাজিয়ে কেন্দ্রের সামনে থাকা উৎসুক মানুষদের স‌রিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

এতে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ও আশঙ্কা ছ‌ড়িয়ে পড়ে। একই সময়ে উপজেলা আনসার ভি‌ডি‌পি কার্যালয় কেন্দ্রে হঠাৎই হুড়োহুড়ি দেখা দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস‌্যরা হুইসেল বা‌জিয়ে কেন্দ্রের সামনে থাকা উৎসুক মানুষদের স‌রিয়ে দেন। এতে কেন্দ্রের ভেতরে থাকা ভোটারদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কেন্দ্রের ভেতরে ভোটারদের সারিতে মাত্র কয়েকজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

default-image

আনসার ভি‌ডি‌পি কার্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. মনছুরুল হক বলেন, এক ব‌্যক্তি দলীয় পরিচয় দিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে‌ছিলেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ায় তি‌নি চলে যান। ওই কেন্দ্রে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ভোট দেন মোস্তফা জামান পাটোয়া‌রী। তি‌নি বলেন, ‘সকালে দীর্ঘ সা‌রি থাকায় ভোট দিতে যাইনি। বিকেলের দিকে মানুষের ছুটোছুটির কারণে ভয়ে ভোট দিতে যাইনি। প‌রে পরিস্থিতি কিছুটা শ‌ান্ত হলে ভোট দিতে এসে‌ছি।’

একই সময়ে আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেন স্কুল কেন্দ্রেও বহিরাগতরা প্রবেশ করেছে—এমন কথা হঠাৎ রটে গেলে কেন্দ্রের বাইরে শোরগোল শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক টহল গা‌ড়ি সেখানে উপস্থিত হয়। তবে কেন্দ্রের ভেতরে বহিরাগত কাউকে দেখা যায়‌নি। এ সময় কেন্দ্রের বাইরে থাকা উৎসুক মানুষদের স‌রিয়ে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নির্বাচন সুন্দর হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মেয়র পদে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আবদুল আহাদ। জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাদমান সা‌কিবের কাছে কয়েকটি কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ও হুড়োহুড়ির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রথম আলোকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। এতে ভোটকেন্দ্রে কোনো প্রভাব পড়েনি। ভোটারেরা শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। কোনো কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ সামান্য সময়ের জন্যই বন্ধ ছিল না। তবে বিকেল চারটায় নতুন করে কোনো ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশ করানো হয়‌নি।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন