বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওরের ভূরাখালি গ্রামের কৃষক ও হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ ৫ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আবুল কয়েস বলেন, তিনি গত বছর ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। ৩ কিস্তিতে ১০ লাখ টাকা পেলেও চূড়ান্ত বিলের অর্থ আজও পাননি। নানা টালবাহানায় পাউবোর মাঠ কর্মকর্তারা তাঁদের বিল পরিশোধ না করে হয়রানি করছেন।

আরেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মিছবাহ আহমেদ বলেন, ‘ফসল উত্তোলনের ১০ মাস অতিবাহিত হলেও চূড়ান্ত বিলের অর্থ না পাওয়া দুঃখজনক। আমরা অনেক ধারদেনা করে কাজ শেষ করছি। বিলের টাকা পেতে হয়রানির কারণে অনেকে পিআইসি কাজ করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।’

হাওর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের নেতা ছালিক আহমেদ বলেন, ঠিকাদারি প্রথায় যখন হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ করা হতো, তখন কাজও ভালো হতো না, অথচ ৩০ জুনের মধ্যে ঠিকাদারেরা সব বিলের অর্থ পেয়ে যেতেন। এখন পিআইসি প্রথায় ভালো কাজ হলেও বিল পেতে হয়রানি করা হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের জগন্নাথপুর উপজেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, গত বছর ৩৭টি পিআইসির মাধ্যমে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দে উপজেলার হাওর রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ করা হয়। চলতি বছর ২৮টি পিআইসির মাধ্যমে হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ করা হবে। এতে প্রাথমিকভাবে ৩ কোটি ২১ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

আগাম বন্যার আশঙ্কায় বোরো ফসল নিয়ে কৃষকদের চিন্তায় থাকতে হয় বলে জানালেন জগন্নাথপুর উপজেলা হাওর বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, এখনই কমিটি গঠন শেষ করে কাজ শুরু করা না গেলে কৃষকদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়বে। ১৫ ডিসেম্বর নামমাত্র একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। দৃশ্যমান কোনো কাজ এখনো শুরু হয়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ও হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ সংস্কার তদারক কমিটির সদস্যসচিব হাসান গাজী বলেন, গত বছরের পাঁচটি পিআইসির চূড়ান্ত বিলের কাগজপত্রে জটিলতা আছে। তাই চেক বিতরণ করা যায়নি। তবে শিগগিরই চেক বিতরণ করা হবে। চলতি বছরের ২৮ প্রকল্পের মধ্যে ১১টির কমিটি গঠন ও তিনটির কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন