মঙ্গলবার বেতাউকা গ্রামের বাসিন্দা ও চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মফিজ আলী বলেন, ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ সঠিকভাবে না হওয়ায় বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। বেতাউকা স্কুলের সামনের বেড়িবাঁধে ফাটল ধরে চুইয়ে চুইয়ে পানি ঢুকছে। এতে নলুয়ার হাওরের কৃষকেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ প্রকল্প কমিটি গঠনে অনিয়ম আছে বলে জানিয়েছেন হাওর বাঁচাও আন্দোলন জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, একটি চক্র বাঁধ নির্মাণের সময় পাউবোর কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে প্রকল্প হাতিয়ে নিয়ে সঠিকভাবে কাজ না করে লুটপাটে মেতে উঠে হাওরকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। বেতাউকা গ্রামের জুয়েল আহমদসহ আরও অনেকেই আছেন ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির চক্রে।

অভিযোগের বিষয়ে চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য জুয়েল আহমদ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি কোনো বেড়িবাঁধ প্রকল্পে সম্পৃক্ত নই। আমার আত্মীয়স্বজনের নামে কোনো প্রকল্প নেই। শুধু আমার ভাইয়ের নামে একটি প্রকল্প আছে। সেটি আমি দেখাশোনা করছি।’

১৪ নম্বর প্রকল্প কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, ‘আমি আমার প্রকল্পের কাজ করছি। পাঁচ বছর ধরে হাওরে কাজ করছি। বাঁধে ফাটল দেখা দিলেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’

পাউবো জগন্নাথপুর উপজেলার মাঠ কর্মকর্তা হাসান গাজী বলেন, জুয়েলের আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশী কয়েকজন প্রকল্পের দায়িত্ব পালন করলেও কোনো চক্রের প্রভাবে প্রকল্প দেওয়া হয়নি। জুয়েল আহমদ নিজে কাজ দেখাশোনা করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ১৪ নম্বর প্রকল্পের বাঁধে ফাটল দেখা দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে পানি ঢুকলেও তা বন্ধ করতে অতিরিক্ত শ্রমিক লাগিয়ে মেরামতের কাজ করা হচ্ছে।

নলুয়ার হাওর উপজেলার সবচেয়ে বড় হাওর উল্লেখ করে জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, এই হাওরের পানি ঢুকে পড়ার খবরে তাঁরা উদ্বিগ্ন। তবে অতিরিক্ত শ্রমিক লাগিয়ে বাঁধ রক্ষার কাজ চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন