আবদুস সামাদ বলেন, সমতেরা বেগমের চিকিৎসার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহ্বান জানানোর পর ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। দেশ–বিদেশে অবস্থানরত বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় অনেকে অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৮০ টাকা সহায়তা পাওয়া গেছে। এখন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসক কিছু পরীক্ষা দিয়েছেন। সমতেরা বেগমের সহায়তার জন্য একজন নারী ও একজন পুরুষকে ন্যূন্যতম মজুরি দিয়ে রাখা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক–শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রানীগঞ্জ ইউনিয়নে পাশাপাশি দুটি প্রতিষ্ঠান রানীগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয় ও রানীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত তিন বছর ধরে অজ্ঞাতনামা হিসেবে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী সেখানে বাস করছিলেন। করোনাকালে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কোনো অসুবিধা না হলেও গত ৩ মার্চ বিদ্যালয় খোলার পর থেকে দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা ওই নারীকে নিয়ে সমস্যায় পড়েন। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ওই নারী এলোমেলোভাবে চলাফেরা করেন। যাকে পান তাকে গালিগালাজ করেন।

পরে রানীগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওই নারীর পরিচয় জানতে চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন। পরে ওই নারীর পরিচয় জানা গেলেও সমেতরা বেগমের বোন দারিদ্রতার কারণে বোনের দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে প্রধান শিক্ষক নিজ উদ্যোগে সমেতরা বেগমের চিকিৎসার জন্য সহায়তা চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন।

রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ছদরুল ইসলাম বলেন, ‘রানীগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ইউনিয়নের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কাছে সাড়া পাওয়ায় ওই নারীর চিকিৎসা শুরু হয়েছে। তাঁকে সুস্থ করে আমরা পরিবারের হাতে তুলে দিতে চাই।’

ওই নারীর বোন রিনা বেগম বলেন, তাঁর স্বামী একজন দিনমজুর। বোনের সেবায় তিনি পাশে থাকতে চান। অভাব–অনটনের কারণে পারিবারিক সমস্যায় আছেন। বোন সুস্থ হলে তিনি তাঁকে দেখাশোনা করতে পারবেন। বোনের চিকিৎসার ব্যবস্থা হওয়ায় তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘রানীগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সামাদের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আমরা ওই নারীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। সরকারিভাবে তাঁকে সহায়তার চেষ্টা করা হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন