বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মজলুল হক বলেন, ‘মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় আরেকজনের ব্যাংক ঋণের জামানতকারী থাকায় ঋণ খেলাপির অভিযোগে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল। পরে আমি উচ্চ আদালতের আদেশে প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছি।’

সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউপিতে মোট পাঁচজন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা সবাই প্রবাসী। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মোহাম্মদ আবুল হাসানকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। এ ছাড়া অন্য চার প্রার্থীর মধ্যে মকসুদ কোরেশী, আজহার কামালী, মুকিতুর রহমান হলেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী। অপর প্রার্থী আজাদ হোসেন চৌধুরী ইতালিপ্রবাসী।

পাটলী ইউপির পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজুল হক, আবদুল হাই, এনামুল হক, আতিকুর রহমান যুক্তরাজ্যপ্রবাসী। এদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আঙ্গুর মিয়া প্রবাসী না হলেও তাঁর দুই ছেলে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে এসে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।
এদিকে কলকলিয়া ইউপির তিন প্রার্থীর মধ্যে রফিক মিয়া যুক্তরাজ্যপ্রবাসী। অন্য দুজন আলাল হোসেন ও আবদুস সোবহান দেশে রয়েছেন।

চিলাউড়া হলদিপুর ইউপিতে বর্তমান চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আরশ মিয়া। এ ইউপিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবদুল গফুর ও বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম দেশে থাকলেও তাঁদের ছেলেরা শিগগিরই দেশে এসে প্রচারণায় নামবেন বলে জানা যায়। এ ইউপির বাকি তিন প্রার্থী আবদুল মমিন, এলাইছ মিয়া ও মুজিবুর রহমান—সবাই যুক্তরাজ্যপ্রবাসী।

রানীগঞ্জ ইউপিতে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ছালিক মিয়া ও সিরাজুল ইসলাম প্রার্থী হয়েছেন। এ ইউপির আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ছদরুল ইসলাম, বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম, বিএনপির নেতা আমান উল্যাহ প্রবাসী না হলেও তাঁদের সমর্থনে স্বজনেরা প্রবাস থেকে দেশে ফিরে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।

২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপে জগন্নাথপুরের সাত ইউপিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইউপিতে এবার ৩৭ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আশারকান্দি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আবদুস ছাত্তার। এ ইউপির দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী জমিরুল হক, আহমেদ হোসেনও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী। তবে ইউপির অন্য দুই প্রার্থী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান, বিএনপির নেতা গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী পারভেজ প্রবাসী না হলেও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাজ্যপ্রবাসী। তাঁদের স্বজনেরা অনেকেই দেশে এসে প্রচারণা শুরু করেছেন।

পাইলগাঁও ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মখলুছ মিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী ফারুক আহমেদও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী। এ ইউপিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সুন্দর উদ্দিন প্রবাসী না হলেও তাঁর ছেলে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে এসে বাবার নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালনা করছেন।

ভোট উৎসবে অংশ নিতে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে এসেছেন শ্রীরামসি গ্রামের ছরফ রাজ। তিনি জানান, তাঁর স্বজন সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর পক্ষে কাজ করতেই তিনি কয়েকদিন আগে দেশে এসেছেন।

প্রবাসী প্রার্থীরা নিজ নিজ ইউনিয়নের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাই নির্বাচনের মাঠে তাঁদের ভালো প্রভাব থাকে।
নুরুল হক, আহ্বায়ক, উপজেলা নাগরিক ফোরাম

এদিকে পাটলী ইউপির শ্যামহাট গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হান্নানও নির্বাচন উপলক্ষে দেশে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘দেশে ইউপি নির্বাচন চলছে। এ সময় বিদেশে থাকতে ইচ্ছে করে না। আমার কোনো আত্মীয়স্বজন নির্বাচনে প্রার্থী হননি। শুধু ভোট উৎসব উপভোগ করতেই দেশে এসেছি।’

পাটলী ইউপির প্রার্থী যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সিরাজুল হক বলেন, ‘১০ বছর ধরে আমি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এখন দেশেই আমার সবকিছু। বিশেষ প্রয়োজন হলে কয়েক দিনের জন্য লন্ডনে যাই।’

চিলাউড়া হলদিপুর ইউপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আরশ মিয়া জানান, জীবন-জীবিকার তাগিদে তিনি প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছেন। তবে জন্মভূমি থেকে তিনি কখনো বিচ্যুত হননি। তাই ইউনিয়নবাসীর কল্যাণে তিনি কাজ করতে চান। এ জন্য প্রবাসের আরাম-আয়েশের জীবন ছেড়ে দেশে এসে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

জগন্নাথপুর উপজেলা নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক নুরুল হক জানান, প্রবাসী অধ্যুষিত এ উপজেলায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন মানেই প্রবাসী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত। গত ইউপি নির্বাচনে উপজেলার আট ইউপির মধ্যে সাতজন প্রবাসী প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারও অধিকাংশ ইউপিতে প্রবাসী প্রার্থীরা নির্বাচিত হবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

নুরুল হক জানান, প্রবাসী প্রার্থীরা নিজ নিজ ইউনিয়নের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাই নির্বাচনের মাঠে তাঁদের ভালো প্রভাব থাকে।

জগন্নাথপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হক জানান, প্রবাসী প্রার্থীরা প্রচুর অর্থসম্পদের মালিক। তাই নির্বাচনের সময় তাঁরা টাকার খেলায় মেতে উঠে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার আশঙ্কা থাকে। তবে প্রবাসী প্রার্থীরা আবার দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ান। তাই ভোটের মাঠে তাঁদের গুরুত্বও রয়েছে। তবে নির্বাচিত হওয়ার পর অনেকেই প্রবাসে চলে যান। এতে ভোটাররা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন