default-image

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় জঙ্গি আস্তানা থেকে আটক নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সক্রিয় শীর্ষ চার সদস্যের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছে। শনিবার বিকেলে শাহজাদপুর থানায় মামলা তিনটি করেন র‌্যাব-১২–এর ডিএডি আনোয়ারুল ইসলাম। এ সময় গ্রেপ্তার হওয়া চারজনকে থানা–পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন দিনাজপুরের কোতোয়ালি থানার শশরা সাহাপাড়া এলাকার মো. মানিক হোসেনের ছেলে মো. আতিউর রহমান (১৯), পাবনার সাঁথিয়া থানার দাড়ামুধা এলাকার মো. মোখলেছুর রহমানের ছেলে মো. শামীম হোসেন ওরফে কিরণ (১৯), একই এলাকার মো. আবু তালেবের ছেলে মো. নাইমুল ইসলাম (২৫) ও সাতক্ষীরার তালা থানার দক্ষিণ নলতা এলাকার বজলুর রহমানের ছেলে মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে শান্ত (২০)।

এই চার আসামির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, অস্ত্র ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনটি মামলা করা হয়েছে। সন্ধ্যায় কড়া পাহারায় আদালতের মাধ্যমে তাঁদের সিরাজগঞ্জ জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে শাহজাদপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের শেরখালী উকিলপাড়ার একটি ভাড়া বাড়িতে অবস্থান করার সময় র‌্যাবের অভিযানে আত্মসমর্পণ করেন চারজন। পরে বাড়িটিতে র‌্যাব তল্লাশি করে দুটি পিস্তলসহ বিভিন্ন বিস্ফোরকদ্রব্য ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন প্রকৃত নাম গোপন করে সেলিম ও নাঈম নাম ধারণ করেন। তাঁরা পাবনার বেড়া উপজেলার আল হেরা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র পরিচয় দিয়ে ওই বাড়ি ভাড়া নেন। জঙ্গি আস্তানা গড়ে ওঠা ওই বাড়ির মালিক শামসুল হক ওরফে রাজা। চাকরিসূত্রে তিনি বগুড়ায় বসবাস করেন। তাঁর ভায়রা ভাই একই ওয়ার্ডের দাবারিয়া মহল্লার বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মামুন বাড়িটির দেখাশোনা করে থাকেন।

র‍্যাবের ভাষ্য, শাহজাদপুরে আত্মসমর্পণ করা চারজনই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য। এর আগে রাজশাহী শাহ মখদুম এলাকায় মাসিক সভা করার সময় আঞ্চলিক কমান্ডার মাহমুদসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শাহজাদপুরের উকিলপাড়া এলাকার ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে।

শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিদ মাহমুদ খান শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মামলার তথ্য নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, র‌্যাব-১২–এর ডিএডি আনোয়ারুল ইসলাম বাদী হয়ে গ্রেপ্তার চার জঙ্গির বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করেছেন। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এলাকাটির সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য পড়ুন 0