বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলো: একজন হিজড়া হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মনোবল কীভাবে অর্জন করলেন?

শম্পা খাতুন: সমাজে নারীরা এখনো অবহেলিত ও নির্যাতিত। তা ছাড়া জনপ্রতিনিধিরা মানুষের কল্যাণে ঠিকমতো কাজ না করে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকেন। এ কারণে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মানুষের মনে খারাপ ধারণার সৃষ্টি হয়। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে আমি জনপ্রতিনিধি হতে চেয়েছি। আমার স্বামী-সন্তান, সংসার নেই। নিজেকে জনগণের কাজে নিয়োজিত রাখতে চাই। এসব ভাবনা থেকে আমি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মনোবল অর্জন করেছি।

প্রথম আলো: হিজড়া হিসেবে প্রচার-প্রচারণায় নেমে কোনো সমস্যা হয়েছে কি?

শম্পা খাতুন: সাধারণ মানুষ সামনে কিছুই বলেননি, তবে শুনেছি গোপনে দুই-একজন আজেবাজে মন্তব্য করেছেন। আমার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমার সম্পর্কে খারাপ কথা বলে এসেছেন। ভোটাররা আমাকে এসব বলেছেন। আমি এগুলো আমলে না নিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজের জন্য ভোট চেয়েছি। জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে খারাপ কথার জবাব দিয়েছেন।

প্রথম আলো: নির্বাচিত হওয়ার পর আপনার পরিকল্পনা কী?

শম্পা খাতুন: প্রথমেই পরিকল্পনা আছে নারীদের নিয়ে পৃথক সংগঠন গড়ে তোলা। আমি মনে করি, আমাদের সমাজে এখনো নারীরা অবহেলিত ও নির্যাতিত। এই নির্যাতিত নারীদের পাশে দাঁড়াতে আমাদের একতাবদ্ধ হতে হবে। তা ছাড়া এখনো সমাজে বাল্যবিবাহ হচ্ছে। এর বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়ানোর ইচ্ছা আছে। আমার এলাকার কোনো নারী যেন অবহেলার শিকার না হন, সে জন্য আমি কাজ করব।

প্রথম আলো: তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য আপনার পরিকল্পনা কী?

শম্পা খাতুন: তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য সরকারের এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। আমাদের দেশে এখনো তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সহযোগিতা আসে। এসব সহযোগিতা এই মানুষগুলো ঠিকমতো পেলে স্বাবলম্বী হতে পারতেন। আমি আমার নিজ এলাকায় যাঁরা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ আছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়াব। তাঁদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করব।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন