কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভা মর্যাদায় দ্বিতীয় শ্রেণি। এখনো নিশ্চিত হয়নি নাগরিক সেবা। ১৬ জানুয়ারি পৌরসভার নির্বাচন। মেয়র পদে প্রার্থী চারজন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র শামীমুল ইসলাম ছানা। তিনি ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। প্রথম আলোর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে নির্বাচন ও পৌরসভার সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
default-image

টানা দুবার মেয়র হয়েছেন। আগের দুবারের তুলনায় এবার কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হবে?

শামীমুল ইসলাম: কোনোবারই আমি সহজে জিতিনি। এবারও একই রকম। সব সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিততে হয়। তবে পরিবেশ ভালো। জনগণ যে রায় দেবেন, সেটাই মেনে নিব। জনগণ কেন্দ্রে গেলে নৌকাতেই ভোট দেবেন।

দুটি জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের কেন্দ্রবিমুখতা দেখা গেছে। পৌরসভা নির্বাচনে কি সেটার প্রভাব পড়বে?

শামীমুল ইসলাম: ভেড়ামারায় কোনো বিমুখতা নেই। এখানে নারী-পুরুষ সবাই কেন্দ্রে গিয়েই ভোট দেন। আশা করা যাচ্ছে, মানুষ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন।

গত পাঁচ বছরে শহরে দৃশ্যমান কী কাজ করেছেন?

শামীমুল ইসলাম: ছোটখাটো নালা ও সড়ক নির্মাণ করেছি। পৌরসভার মধ্যে অধিকাংশ সড়ক এলজিইডির। পৌরসভায় আওতায় সড়ক কম। তবে কয়েকটি ওয়ার্ডে কিছু সড়ক সংস্কার করা হয়নি। সব মিলিয়ে গত ৫ বছরে ২৫ কোটি টাকার কাজ করা হয়েছে।

ভেড়ামারায় পৌরসভা থেকে কোনো পানি সরবরাহ নেই। এ ব্যাপারে কী বলবেন?

শামীমুল ইসলাম: আগে ছিল। সেটার কাজ করা হচ্ছে। পাইপলাইনের কাজ চলছে।

পৌরবাসীর সবচেয়ে বড় ক্ষোভ শহরে বর্ষাকালে ব্যাপক জলাবদ্ধতা হয়। সেটা নিরসনে কী করেছেন?

শামীমুল ইসলাম: বৃষ্টি হলে ভেড়ামারা শহরে জলাবদ্ধতা হয়। এতে মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। এবার যদি নির্বাচিত হই তবে প্রথম কাজ হবে জলাবদ্ধতা দূরীকরণে যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, তার সবই করা হবে। শহরকে জলাবদ্ধতামুক্ত করা হবে। এ ছাড়া একটা বিনোদনকেন্দ্র গড়া হবে।

বিজ্ঞাপন

করোনাকালে আপনার ভূমিকা কী ছিল?

শামীমুল ইসলাম: করোনাকালে কোনো সময়ই আমি ঘরে বসে থাকিনি, যা জনগণ দেখেছে। সব সময় আমি মানুষের কাছেই ছিলাম। করোনাকালে সহায়তাসহ কেউ মারা গেলে তাঁদের লাশ দাফন করতে নিজে এগিয়ে গিয়েছি।

অভিযোগ আছে, আপনি প্রচারণায় বিভিন্ন পথসভায় বিরোধীপক্ষকে কটূক্তি করছেন। এটা কেন?

শামীমুল ইসলাম: আমি কোনো ভাষায়ই কটূক্তি করিনি। আমি জনগণের জন্য কাজ করছি। তাদের পাশেই থাকতে চাই।

আপনার দলের কয়েকজন নেতাকে প্রচারণায় সঙ্গে দেখা যাচ্ছে না। কেন?

শামীমুল ইসলাম: এটা ঠিক উপজেলার এক শীর্ষ নেতা সঙ্গে আসছেন না। বাকিরা সবাই আছেন। কোনো সমস্যা হবে না। রাজনৈতিক বড় দলে একটু বিরোধ থাকতেই পারে।

আপনার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী মশাল প্রতীকের প্রার্থী। কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে?

শামীমুল ইসলাম: তাঁর (মশাল প্রার্থী) পুঁজি একটাই, তাঁর ব্যাপক টাকা। যেটা নির্বাচনী আচরণবিধির বাইরে। টাকা দিয়ে অনেক কিছু করার চেষ্টা করছেন তিনি।

জয়ের ব্যাপারে কতটা আশাবাদী, জনগণ কেন আবার আপনাকে মেয়র হিসেবে নেবেন?

শামীমুল ইসলাম: আমি শতভাগ আশাবাদী জনগণ আমাকে আবার মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করবেন। এবার আমি অন্তত ১০ হাজার ভোট পাব।

জনগণ আপনার কাছে সেবা নিতে গেলে আপনি তাঁদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। কতটা সত্য?

শামীমুল ইসলাম: আমার মনে হয়, যাঁরা মশালের সমর্থক, তাঁদের কয়েকজন এমন মিথ্যা অভিযোগ করছেন। জনগণের সেবায় সব সময় কাজ করি। কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয় না।

প্রথম আলো: সাক্ষাৎকারের সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

শামীমুল ইসলাম: আপনাকেও ধন্যবাদ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন