বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শৈবাল বসাক আজ সোমবার সকালে প্রথম আলোকে জানান, রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ছয় পুলিশ সদস্য আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। আহত পুলিশ সদস্যদের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার রাত ১১টার দিকে পঞ্চসার ইউপির সদস্য ইমরান হোসেন ও তাঁর ভাই সম্রাটের মালিকানাধীন কারেন্ট জাল তৈরির কারখানায় অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশ সদস্যরা সাদাপোশাকে ওই অভিযানে যান। তাঁদের সঙ্গে অস্ত্র ছিল না। কারখানার ভেতরেই পুলিশকে একদফা মারধর করেন ইমরান-সম্রাটের লোকজন। এরপর এই পুলিশ সদস্যদের মালিপাথর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আনা হয়। এর মধ্যেই স্থানীয় দুটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়, এলাকায় ডাকাত পড়েছে। ওই বিদ্যালয়ের মাঠে সবাইকে জড়ো হতে বলা হয়। সেখানেও পুলিশ সদস্যদের আরেক দফা মারধর করা হয়।

স্থানীয় লোকজন জানান, এলাকায় কারেন্ট জালের উৎপাদন আগের চেয়ে অনেক কমেছে। তবে এখনো ইউপি সদস্য ইমরানসহ প্রভাবশালীরা গোপনে কারেন্ট জালের উৎপাদন ও ব্যবসা করে যাচ্ছেন। ঘটনার পরপরই মূল অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পালিয়ে গেছেন। পুলিশ স্থানীয় কয়েকজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে আটক করে নিয়ে গেছে।

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাজিব খান প্রথম আলোকে বলেন, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে রোববার রাতে মালিপাথর এলাকায় অভিযানে যায় পুলিশ। সে সময় পুলিশ জানতে পারে, স্থানীয় ইউপি সদস্য ইমরান ও তাঁর ভাই সম্রাট অবৈধ কারেন্ট জাল তৈরি করছেন। এ জন্য কারখানায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় তাঁদের ওপর হামলা চালায় কারখানার লোকজন এবং এলাকায় ডাকাত ঢুকেছে বলে মসজিদের মাইকে প্রচার করেন ইমরানরা। পরে তাঁদের লোকজন স্কুলের মাঠে গিয়ে পুলিশকে আরেক দফা মারধর করেন। এতে পুলিশের সাত সদস্য আহত হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়। তাঁরা ১১টি ফাঁকা গুলি ছুড়ে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করেন এবং আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন