বিজ্ঞাপন

করোনা মহামারি শুরু হলে আদরের মেয়েকে ঢাকা থেকে বাড়ি নিয়ে আসেন বাবা। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারিতে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে ফাতেমা। ভর্তি করানো হয় দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ১১ দিন চিকিৎসা গ্রহণ ও পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানায়, ফাতেমার দুটি কিডনিই অকেজো হয়ে গেছে। অন্তত একটি পরিবর্তন করা জরুরি। অথবা প্রতি সপ্তাহে দুবার কিডনি ডায়ালাইসিস করতে হবে। অভাবের সংসারে মেয়েকে নিয়ে শুরু হয় বাবার ছোটাছুটি।

গত সোমবার ফাতেমাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, খড়ের বেড়া আর টিনের চালায় দুই কক্ষের একটি ঘর আক্তার হোসেনের। বারান্দায় শুয়ে টেপ রেকর্ডারে হামদ–নাত শুনছে ফাতেমা। পাশে রাখা ব্রেইল পদ্ধতির একটি বই।

আল্লাহ আমাকে চোখ দেয়নি, তার ওপর আমার দুটি কিডনিই নষ্ট। আমি এই সুন্দর পৃথিবীতে বাঁচতে চাই। পড়াশোনা করতে চাই। ১৬ কোটি মানুষের একটু সহযোগিতা পেলে হয়তো আমার বেঁচে থাকা সম্ভব হবে।
আইবি আক্তার ফাতেমা

আলাপ জমানোর পর ফাতেমা বলে, ২০১২ সালে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী স্কুলে (ব্যাপিস্ট মিশন) ভর্তি হয় সে। তিন মাসের মাথায় সেখানে ক্লারোনোমিতা হালদারের কাছে ব্রেইল শেখে। ফাতেমার ভাষায়, ‘ভালোই ছিলাম। স্কুলে বন্ধু, শিক্ষক—সবাইকে আমার ভালো লাগে। লকডাউনের পর বাসায় আসি। কয়েক মাস পরে অসুস্থ হয়ে পড়ি। এখন আর হাঁটতেও পারি না।’ আফসোস করতে করতে ফাতেমা আরও বলে, ‘আল্লাহ আমাকে চোখ দেয়নি, তার ওপর আমার দুটি কিডনিই নষ্ট। আমি এই সুন্দর পৃথিবীতে বাঁচতে চাই। পড়াশোনা করতে চাই। ১৬ কোটি মানুষের একটু সহযোগিতা পেলে হয়তো আমার বেঁচে থাকা সম্ভব হবে।’

সদাহাস্য ফাতেমা পড়াশোনার পাশাপাশি হামদ-নাত গাইতে ভালোবাসে। ৩৫০–এর বেশি হামদ-নাত মুখস্ত রয়েছে যেমন, তেমনি নিজেও লিখেছে ৭০টি হামদ-নাত ও গজল। এক শিক্ষক তাকে কোরআন পড়ে শোনান। আর তা থেকেই বর্তমানে ৩০টি সুরা মুখস্ত হয়েছে তার। ফাতেমার ইচ্ছা কোরআনের হাফেজ হওয়া। কীভাবে সময় কাটে জানতে চাইলে ফাতেমা বলে, এক বন্ধুর বাবা টেপ রেকর্ডার কিনে দিয়েছে। সেটাতে সে হামদ-নাত, গজল শোনে। আশপাশের ছোট ছেলেমেয়েরা আসে। তাদের সঙ্গে গল্প করে।

মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন বাবা আক্তার হোসেন। জানালেন, দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ফজলে এলাহির তত্ত্বাবধানে আছে ফাতেমা। আক্তার হোসেন জানান, বাড়িতে একটা গরু ছিল। সেটা বিক্রি করেছেন। সপ্তাহে দুবার কিডনি ডায়ালাইসিস করতে বলেছেন চিকিৎসক। প্রতিবার দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা লাগে। সেই সঙ্গে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। আক্তার হোসেন বলেন, ‘ইতিমধ্যে ধারদেনা করেছি। মানুষ আর কত সাহায্য করবে?’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন