default-image

সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে রায়হান আহমেদকে হত্যার ঘটনায় দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেননি ওই ফাঁড়ির সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ইনচার্জ ও উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন। পুলিশের হেফাজতে সাত দিনের জিজ্ঞাসাবাদ (রিমান্ড) শেষে আজ মঙ্গলবার তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আকবর রিমান্ডে থাকা অবস্থায় কী বলেছেন, সে বিষয়ে মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সিলেট কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মুহাম্মদ খালেদ-উজ-জামান তদন্তের স্বার্থে কিছু বলতে রাজি হননি।

বিজ্ঞাপন

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এর আগে নির্যাতনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বন্দরবাজার ফাঁড়ির তিনজন কনস্টেবল আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এর আলোকে তদন্ত করে অপরাধীদের শনাক্ত করার প্রস্তুতি নিয়েছে পিবিআই। পাশাপাশি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি ও নিহত রায়হানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ করা সাইদুল শেখের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলার সমন্বিত তদন্ত করা হচ্ছে। দুটি পৃথক মামলা একীভূত করে অভিযুক্ত শনাক্ত করা হতে পারে।

অন্যদিকে একই মামলার আসামি বন্দরবাজার ফাঁড়ির সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও হারুন অর রশিদ এবং প্রত্যাহার হওয়া সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহীকে দুই দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁদেরও কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলার সন্দেহভাজন আসামি সাইদুল শেখ অন্য একটি মামলায় রিমান্ডে আছেন।

রিমান্ড শেষে আজ সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুল কাশেমের আদালতে আকবরকে হাজির করা হয়। সেখানে হত্যার ব্যাপারে কোনো জবানবন্দি দিতে রাজি না হওয়ায় আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান।
মুহাম্মদ খালেদ-উজ-জামান, এসপি, পিবিআই

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিলেট নগরীর আখালিয়া নিহারিপাড়ার বাসিন্দা রায়হানকে ১০ অক্টোবর রাতে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরদিন তিনি মারা যান। এ ঘটনায় হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় মহানগর পুলিশের গঠিত কমিটি তদন্ত করে নির্যাতনের সত্যতা পায়। এর ভিত্তিতে ১২ অক্টোবর ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা (ইনচার্জ) এসআই আকবরসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। ১৩ অক্টোবর আকবর পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যান। ২৭ দিন পর ৯ নভেম্বর কানাইঘাটের ডোনা সীমান্ত থেকে আকবরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১০ নভেম্বর আকবরকে আদালতের মাধ্যমে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয় পিবিআই।

রিমান্ডে থাকা অবস্থায় গত শুক্রবার রাতে আকবর অসুস্থ বলে পিবিআইকে জানান। তাঁকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কোনো অসুস্থতা পাননি। ঘণ্টাখানেক পর আবার পিবিআইয়ের হেফাজতে নেওয়া হয় আকবরকে।

জানতে চাইলে এসপি মুহাম্মদ খালেদ-উজ-জামান প্রথম আলোকে বলেন, রিমান্ড শেষে আজ সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুল কাশেমের আদালতে আকবরকে হাজির করা হয়। সেখানে হত্যার ব্যাপারে কোনো জবানবন্দি দিতে রাজি না হওয়ায় আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0