বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রোববার বিকেলে কমিটির প্রধান নাজিরুল ইসলামের সঙ্গে প্রথম আলোর প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি বলেন, এ বিষয়ে কেউ কথা বলছেন না। মারা যাওয়া কৃষক অভিনাথের স্ত্রী বলছেন, তিনি কিছুই জানেন না। আর অপারেটর সাখাওয়াতকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারলে আসলে কী হয়েছিল, বোঝা যেত। কৃষক রবি মারান্ডির বাড়িতে কেউ নেই। তাঁর স্ত্রী নাকি রাজমিস্ত্রির কাজে গেছেন। পরে জানা গেল, তিনি নাকি বিয়েই করেননি। তদন্ত কর্মকর্তারা মারা যাওয়া দুই কৃষকের জমির ধান দেখে তদন্তের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। জমির আগাছা দেখেই তাঁরা ধারণা করছেন, দুই কৃষক ঠিকমতো টাকা না দেওয়ায় সাখাওয়াত তাঁদের একটু ঘোরাতে পারেন। এসবের ভিত্তিতেই তাঁরা প্রতিবেদন দেবেন বলে জানান তিনি।

গত বুধবার কৃষক অভিনাথ মার্ডি (৩৬) ও তাঁর চাচাতো ভাই রবি মারান্ডি (২৭) বিষপান করেন। এতে বুধবারই অভিনাথের মৃত্যু হয়। আর শুক্রবার রবি মারা যান। এ ঘটনায় অভিনাথের স্ত্রী রোজিনা হেমব্রম বিএমডিএর গভীর নলকূপ অপারেটর সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেছেন। পানি না দিয়ে তিনি বিষপান করতে বলেছিলেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়। দুই কৃষকের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে শনিবার তিন সদস্যের একটি কমিটি করেছে বিএমডিএ। কমিটির প্রধান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) নাজিরুল ইসলাম। অন্য দুজন হলেন নির্বাহী প্রকৌশলী তোফাজ্জল আলী সরকার ও এনামুল কাদির।

অভিনাথের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্ত্রীর দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, ‘পানির অভাবে জমির ধান নষ্ট হচ্ছিল। ঘটনার দিন অভিনাথ পানির জন্য গেলে সাখাওয়াত তাঁকে গালিগালাজ করে বলেছিলেন, “তোর জমিতে আমি পানি দেব না। তুই যা পারিস কর।” তখন অভিনাথ বলেছিলেন, “পানি না দিলে আমি বিষ খাব।” এ সময় সাখাওয়াত বলেছিলেন, “তুই বিষ খা গা।” এরপরই বিষপান করেন অভিনাথ।’

মামলা হলেও সাখাওয়াতকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। দুই কৃষকের মৃত্যুকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে অভিযোগ করছে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীদের নিয়ে কাজ করা স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন।

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মামলা হয়েছে। আসামিকে ধরতে পুলিশ যাচ্ছে। তাঁদের পরিবারের লোকজনকে চাপে রাখা হয়েছে, যাতে আসামিকে ধরিয়ে দেয়। ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের ব্যাপারে তিনি বলেন, ওই দুই কৃষকের জমি উঁচুতে। তাঁদের একটু বেশি পানি লাগতেই পারে। এ জন্য তাঁদের ঘোরাতে পারেন। তাঁরা পাঁচ-সাত দিন পরে সিরিয়াল পান। এ জন্য মরে গেলে তো সমাধান হলো না। বরং পরিবার দুটোকে ধ্বংসের মুখে ফেলে গেল। ওই নলকূপের অধীনে ২৬৫ বিঘা জমি আছে। কারও কোনো অভিযোগ নেই। শুধু এই দুই কৃষকের অভিযোগ। এখন এ ব্যাপারে কী বলবেন, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তদন্তে সাক্ষ্য-প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী অবশ্যই ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন