বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
আমরা তো এই দেশের মানুষ। এই রামদিয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজে আমাদের পরিবার জমি দান করেছে। আমাদের ওপর কেন এই অত্যাচার ও অবিচার?
বিউটি ভৌমিক, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য

বেথুড়ী ইউনিয়নের সাবেক সদস্য ও রামদিয়া দক্ষিণ পাড়া গ্রামের শ্যামল ভৌমিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ১০৬ নম্বর রামদিয়া মৌজার বিআরএস ৩১৩০, ৩১৩১ ও ৩০৫২ দাগে ৮৯ শতাংশ জামির মালিক। এ জমি আমরা বংশপরম্পরায় ভোগ করে আসছি। একই এলাকার কাবুল শেখ টাকার মালিক হয়ে এলাকায় সন্ত্রাসী রাজত্ব কায়েম করছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে আমাদের জমির ওপর দিয়ে ৪০ ফুট প্রস্থ করে রাস্তা নির্মাণ করছিলেন। এ সময় ৪০-৫০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছেন। ওই সব অস্ত্রধারী লোকজন আমাদের দরজায় গিয়ে বলেন ঘর থেকে বের হলে ওই জায়গার ওপর কবর দেওয়া হবে।’

শ্যামল ভৌমিক বলেন, ‘আমরা ভয়ে প্রতিবাদ না করে ৯৯৯ (জাতীয় জরুরিসেবা নম্বর) নম্বরে কল দিই। পরে রাত আড়াইটার দিকে রামদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের মাটি কাটতে বাধা দেয়। পুলিশ চলে যাওয়ার পর পুনরায় তাঁরা মাটি কাটা শুরু করেন। আমরা ফাঁড়িতে আবার জানালে পুলিশ এসে তাঁদের থামিয়ে দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সকাল থেকে আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমাদের ওপর যেকোনো সময় হামলা করতে পারে। আমরা সংখ্যালঘু পরিবারগুলো চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি।’

ভৌমিক বাড়ির গৃহবধূ বিউটি ভৌমিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাত আড়াইটার দিকে শোরগোলে ঘুম ভেঙে যায়। বাড়ির চারপাশে প্রচুর আলো দেখতে পাই। জামির ওপর তিনটি ভেকু মেশিন দিয়ে আমাদের জমি কেটে ফেলতে দেখি। বাড়ির পুরুষেরা ঘর থেকে বের হতে চাইলে তাদের আটকে রাখি। ওই সময় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র হাতে লোকজন খুব খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করছিল। এতে আমরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ি। পুলিশ আসার পর একটু সাহস পেয়েছিলাম। আমরা পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি।’

বিউটি ভৌমিক বলেন, ‘আমরা তো এই দেশের মানুষ। এই রামদিয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজে আমাদের পরিবার জমি দান করেছে। আমাদের ওপর কেন এই অত্যাচার ও অবিচার? আমরা কোথায় বিচার পাব?’

জানতে চাইলে রামদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সেলিম রেজা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা রাতে জানতে পেরেছি অবৈধভাবে অন্যের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করছে ওই এলাকার কতিপয় ব্যক্তি। সেখানে গিয়ে তাঁদের কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিই এবং মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত এক্সকাভেটর মেশিন সরিয়ে নিতে বলেছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কাবুল শেখ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের রাস্তার প্রয়োজন, তাই সবার সঙ্গে কথা বলেছি। এক্সকাভেটর দিয়ে অন্য পাশ থেকে মাটি কাটার কথা ছিল, কিন্তু ভুল করে এ পাশ থেকে কাটা শুরু করেছে। পুলিশ নিষেধ করার পর তা বন্ধ করে দিই।’

বুলবুল শেখের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গতকাল দুপুরে ইউএনও মেহেদী হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমি তাৎক্ষণিকভাবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে কাজটি বন্ধ করার জন্য বলেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন