default-image

সাতক্ষীরা সদরে জমি নিয়ে বিরোধে এক পরিবারের পাঁচজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত ব্যক্তিরা হলেন সাতক্ষীরা সদরের দক্ষিণ কামারবায়সা গ্রামের আহাদ আলী (৬৯), তাঁর স্ত্রী সেলিনা খাতুন (৫৫) এবং তাঁদের ছেলে তোফাজ্জেল হোসেন (৪৮), মজনুর রহমান (৪৫) ও মোজাম্মেল হক (৩৫)। আহাদ আলী, তোফাজ্জেল ও মজনুরকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার বেলা একটার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দক্ষিণ কামারবায়সা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তির নাম মো. রাসেল। তিনি আহাদ আলীর ভাইয়ের ছেলে।

ভারী জিনিস দিয়ে আঘাতের ফলে বৃদ্ধ আবদুল আহাদের দুটি দাঁত ভেঙে গেছে। এ ছাড়া আহাদ, তোফাজ্জেল, মজনুর মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। এ ছাড়া সেলিনা খাতুন ও মোফাজ্জেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ভারী জিনিস দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।
তৈয়বুর রহমান, চিকিৎসক, জরুরি বিভাগ, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৃদ্ধ আহাদ আলী জানান, তাঁর ভাই সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পিপি আবদুল লতিফের বাড়িসংলগ্ন ভিটায় পৈতৃক সূত্রে তিনি সাড়ে ১২ শতক জমি পান। এ জমির দখল নিয়ে কয়েকবার সালিস হয়েছে। গত শুক্রবার আমিন আবদুর রাজ্জাক ওই জমি মাপ জরিপ করেন। মাপ জরিপ শেষে উভয় পক্ষ সীমানা মেনে নেয়। একপর্যায়ে আবদুল লতিফ ওই জমিতে তাঁর ভাই আহাদ আলীকে ঘর করার অনুমতি দেন। সে অনুযায়ী আহাদ আলী তাঁর ছেলেদের নিয়ে আজ দুপুর ১২টার দিকে চিহ্নিত জায়গায় ঘরের জন্য ভিত কাটতে থাকেন। খবর পেয়ে লতিফের ছেলে রাসেলের নেতৃত্বে আমির আলী, মঞ্জুরুল, মোমিন আলী, শরিফ হোসেন, উজ্জ্বল, জিয়ারুল ইসলামসহ ১০-১২ জন হাতে রামদা, রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এ সময় হামলাকারীরা তাঁদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেন। আহাদ আলীর স্ত্রী সেলিনা খাতুন তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে এলে তাঁকেও পিটিয়ে জখম করা হয়। স্থানীয় ব্যক্তিরা খবর পেয়ে উদ্ধার করে তাঁদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

বিজ্ঞাপন

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তৈয়বুর রহমান জানান, ভারী জিনিস দিয়ে আঘাতের ফলে বৃদ্ধ আবদুল আহাদের দুটি দাঁত ভেঙে গেছে। এ ছাড়া আহাদ, তোফাজ্জেল, মজনুর মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। এ ছাড়া সেলিনা খাতুন ও মোফাজ্জেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ভারী জিনিস দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।

ঘটনার সময় তিনি এলাকার বাইরে ছিলেন। হামলার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলেন জানান।
রাসেল, অভিযুক্ত হামলাকারী

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রাসেল প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি এলাকার বাইরে ছিলেন। হামলার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলেন জানান।

জানতে চাইলে রাসেলের বাবা সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পিপি আইনজীবী লতিফ দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি কোর্টে ছিলেন। খবর পেয়ে আহত ব্যক্তিদের দেখতে তিনি সদর হাসপাতালে যান। গিয়ে শোনেন, তাঁর বড় ভাই আদম আলী ও সেজ ভাই আবদুল মান্নানের সঙ্গে ভাই আহাদ আলীর জমি নিয়ে বিরোধ-বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, দক্ষিণ কামারবায়সা গ্রামে একটি মারামারির খবর পেয়ে দুজন উপপরিদর্শককে (এসআই) পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0