বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উপজেলা ডাকঘর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই কার্যালয়ে পোস্টমাস্টারসহ আটজন কর্মরত আছেন। ওই কার্যালয় থেকে ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন পার্সেল, চিঠি বিলিসহ মানি অর্ডার আদান-প্রদান করা হয়।

ওই কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কার্যালয় ভবনের বেশির ভাগ অংশের ছাদের পলেস্তারা ইতিমধ্যে খসে পড়েছে। বেরিয়ে আছে রড। এর মধ্যেই কাজ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এ সময় কথা হয় ওই ডাকঘরে চিঠি জমা দিতে আসা চাকরিজীবী মেহেরুন্নেসার (৩০) সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার তো পোস্ট অফিসে ঢোকার পর থেকে দম বন্ধ হয়ে আসছে। ভীষণ ভয় লাগছে। কখন ছাদ ভেঙে মাথায় পড়ে বলা মুশকিল।’

সম্প্রতি ডাক বিভাগের ওই কার্যালয়ে সেবা নিয়ে বেলা দুইটার দিকে বের হয়ে আসেন বদরগঞ্জ পৌরসভার বালুয়াভাটা গ্রামের আহসান হাবীব। ভবনের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এককথায় ভবনের ভেতরে যতক্ষণ ছিলাম ততক্ষণ জীবন হাতে নিয়ে ছিলাম। কাজ শেষ হওয়ামাত্র দ্রুতগতিতে ভবন থেকে বেরিয়ে এসেছি।  ভবনটির যে অবস্থা, তাতে সেটি দ্রুত সংস্কার করা উচিত। ভবনটি সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

default-image

পোস্টাল অপারেটর আনোয়ারুল হক বলেন, ‘ভবনে ঢোকার আগে আল্লাহকে স্মরণ করি। কাজের মধ্যে ডুবে থেকেও মাথার ওপরে ছাদের দিকে তাকাই। সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কাজ শেষে বের হতে পারলে হাঁপ ছেড়ে বাঁচি।’

ডাকপিয়ন আফছার আহম্মেদ বলেন, ‘ভাই, ২০ বছর ধরে ভবনটির এই জরাজীর্ণ অবস্থা। এখন আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। আমাদের জীবনের কি কোনো মূল্যই নেই!’

উপজেলা পোস্টমাস্টার ইয়াছিন আলী বলেন, তিনি এখানে যোগদানের পর উপজেলা ডাকঘর ভবনের সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ডাক বিভাগের জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে বেশ কয়েকবার চিঠি পাঠিয়েছেন। কিন্তু আজও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন