বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। জং ধরা ছাদের রডগুলো বের হয়ে আছে। অনেক স্থানে দেয়ালে ফাটল ধরেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি চুইয়ে পড়ে ভবনের ভেতরে। এতে করে যেমন শঙ্কায় দিন পার করছে শিক্ষার্থীরা, তেমনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় স্কুলের গুদামঘর ও টিনশেডে ক্লাস চালাতে বাধ্য হচ্ছে তারা। পাঠদানকক্ষে বাঁশের সঙ্গে ফ্যান ঝোলানো রয়েছে। জরাজীর্ণ ভবনটির পাশের ভবনে রয়েছে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়। শিক্ষক মিলনায়তনের এক পাশে জরাজীর্ণ লাইব্রেরি, বিজ্ঞানাগার ও বিজ্ঞান বিভাগের পাঠদানকক্ষ। অন্য পাশে রয়েছে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পাঠদানকক্ষ।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাজনীন নাহার বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে ভবনটির অবস্থা খুবই নাজুক। যেকোনো সময় পুরো ভবন ধসে পড়তে পারে। এমন ভয়ের মধ্যেই চলতে হচ্ছে তাঁদের। সব সময় শিক্ষার্থীদের নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হয়। এ ছাড়া আবাসন সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। নবম শ্রেণির এক ছাত্রী সুমি খাতুন বলে, ছাদ থেকে সিমেন্ট-বালু খসে পড়ায় ক্লাস করতে তাদের ভয় লাগে। সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকে, কখন মাথার ওপর ধসে পড়ে পলেস্তারা। তারা ভয়ে ভয়ে ক্লাস করতে বাধ্য হয়। মাঝেমধ্যে ছাদ থেকে ময়লা পড়ে জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায় বলে জানায় ওই শিক্ষার্থী।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) ফজলুর রহমানের ভাষ্য, এই বিদ্যালয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর একটি দোতলা ও আরেকটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। একতলা ভবনটির ওপর রয়েছে সিনশেড আরও একটি তলা। ১৯৯৪ সালে ফ্যাসিলিটিজ বিভাগ ভবনটি নির্মাণ করে দেয়। এ ছাড়া আর কোনো সরকারি ভবন নির্মাণ হয়নি। বর্তমান ভবনগুলোর অবস্থা একেবারেই নাজুক। বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় ছাদ ধসে পড়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শামীম আহাম্মেদ খান বলেন, নারী শিক্ষার উন্নয়নে এই বিদ্যালয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বিদ্যালয়টি জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। জীবনের ঝুঁকি, সেই সঙ্গে আবাসন সঙ্কট নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই এই বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান ইকু বলেন, উপজেলার সবচেয়ে বড় বিদ্যালয় এটি। তারপরও অবকাঠামোগত তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। দ্রুত এই বিদ্যালয়ে একটি ভবন নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন