default-image

জরিমানার পুরো টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না করায় কুষ্টিয়ায় পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) তিন বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৪ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়া বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আশরাফুল ইসলাম আজ সোমবার এ রায় দেন। এ সময় দণ্ডিত এসআই মোস্তফা হাওলাদার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ভোলা সদর উপজেলার আলগী গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্র জানায়, ২০১০ সালের প্রথম দিকে পৃথক দুটি মামলার একটিতে জরিমানার ৪৩ হাজার টাকা ও আরেকটিতে ২০ হাজার ২০০ টাকা আদালত সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। সে সময় কুষ্টিয়া আদালত পুলিশের উপপরিদর্শক মোস্তফা হাওলাদার ৪৩ হাজারের বদলে ৩ হাজার টাকা ও ২০ হাজার ২০০ টাকার বদলে মাত্র ২০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন। টাকা জমার প্রতিবেদন তিনি অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল আদালতে দাখিল করেন।

পরবর্তী সময়ে আদালতের সন্দেহ হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। একপর্যায়ে প্রতারণার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে বিষয়টি দুদককে জানানো হয়। এরপর একই বছরের ১২ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া দুদক কার্যালয়ের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক শাহার আলী বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় আদালতের তৎকালীন উপপরিদর্শক মোস্তফা হাওলাদার ও পরিদর্শক কায়েম উদ্দিন খানকে আসামি করা হয়। ২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর দুদক মামলাটি তদন্ত করে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

রায় ঘোষণার পর দুদকের আইনজীবী আল মুজাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আসামি মোস্তফা হাওলাদারকে তিন বছর কারাদণ্ড দেন আদালত। পরিদর্শক কায়েম উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। রায় ঘোষণার পর মোস্তফাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন