বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত সোমবার জলকপাট এলাকায় গেলে কথা হয় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে। যাতায়াতের সমস্যা নিয়ে তাঁরা ২০১৫ সালের একটি উদাহরণ দেন। বিরল উপজেলার রানীপুর গ্রামের আফছানা আক্তারের প্রসববেদনা ওঠে ভোরবেলায়। স্বজনেরা তাঁকে সদরে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য নদীর পাড়ে আনেন। নদীর পাড়ে আসার পর শুরু হয় নৌকার জন্য অপেক্ষা। ঘণ্টাব্যাপী অপেক্ষার পর আসেন মাঝি। সেদিন মাঝনদীতে নৌকায় কন্যাসন্তান প্রসব করেন আফছানা।

স্থানীয় লোকজন আরও জানান, এমন পরিস্থিতি ছাড়াও নদী পাড়ি দিতে গ্রামের বাসিন্দাদের নানা ভোগান্তিতে পড়তে হতো। কৃষক সময়মতো উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে পারতেন না। অনেকে ভিন্ন পথে ১৬ কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তা পাড়ি দিয়ে সদর উপজেলায় যেতেন। আবার শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি না থাকায় ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে কৃষকের।

দেখা যায়, নদীর উভয় পাড়ে আলু, শিম, শর্ষের খেত। সেতু ও জলকপাটের দুপাশে ছোট পরিসরে বানানো হয়েছে বিনোদনকেন্দ্র। নদীর পাড়ের গৌরীপুর গ্রামের এমন একটি দোকানে রফিকুল ইসলাম নামের এক বাসিন্দা বলেন, শুকনা মৌসুমে নদীর পানির স্তর নিচে নেমে যেত। তখন শত শত একর জমি অনাবাদি থাকত। গভীর নলকূপের মাধ্যমে খেতে সেচ দিতেন কৃষকেরা। জলকপাট হওয়ায় এখন এই সমস্যার সমাধান হবে।

দিনাজপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম বলেন, দুই উপজেলার প্রায় ৩ হাজার ৬০০ হেক্টর অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আসবে। এ ছাড়াও সেতু নির্মাণের ফলে যোগাযোগব্যবস্থা ও আর্থসামাজিক ব্যবস্থারও উন্নয়ন হবে। তবে এই সেতু দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলের অনুমতি মিলবে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন