কড়াইটির মালিক ওই গ্রামের এমদাদুল হক। কড়াইটি সাত ফুট উঁচু। কড়াইটির বিষয়ে এমদাদুলের ছেলে এরশাদ বিন এমদাদ বলেন, ‘আমার বাবার কাছে শুনেছি, বাবার দাদার পোষা হাতি ছিল। বাড়ির সামনের নদীতে নিয়ে হাতিকে পানি খাওয়াতে হতো। পানি খেতে গিয়ে একবার হাতিটি পা পিছলে নদীতে পড়ে যায়। এরপর হাতিটি উঠছিল না। পরে অনেক চেষ্টায় হাতিটি উঠানো হয়। এরপর আমার বাবার দাদা ভারতের শিলিগুড়িতে গিয়ে কড়াইটি কিনে নিয়ে আসেন। ওই কড়াইতে হাতিকে পানি পান করানোর ব্যবস্থা করা হয়। তখন থেকে কড়াইটি আমাদের পরিবারের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। এটি কিনতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা আসেন। কিন্তু আমার বাবা এটি কোনোভাবে বিক্রি করতে রাজি হননি। কড়াইটির ওজন প্রায় এক মেট্রিক টন।’

ওই কড়াইয়ের রক্ষক এরশাদ বিন এমদাদ বলেন, কড়াইটি তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পদ। এটি সংরক্ষণ করতে চান তাঁরা। প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসে কড়াইটি দেখার জন্য। বাড়ির সামনে বাগান করে সেখানে কড়াইটিকে আরও সুন্দর করে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে রাখা হবে। দ্রুত বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হবে।
নূর আলম নামে গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, কিছুদিন আগে প্রশাসনের লোক এসে এটি নিয়ে যেতে চেয়েছিল। গ্রামবাসী নিতে দেননি। এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন গ্রামবাসী। কারণ এটা তাঁদের বাপ-দাদার সম্পদ। এটা সরকারি কোনো সম্পদ নয়। ওই কড়াই দেখতে অনেক মানুষ আসছে। এই কড়াইয়ের কারণে তাঁদের গ্রামটি অনেক মানুষ চিনছে।

ধর্মপাল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জামিয়ার রহমান বলেন, ‘কড়াইটি ছোটবেলা থেকে তহশিলদার পাড়ায় দেখে আসছি। এলাকায় সেটি হাতির কড়াই নামে পরিচিত। তবে এর পূর্ব ইতিহাস আমার জানা নেই।’

রংপুর জাদুঘরের কাস্টডিয়ান হাবিবুর রহমানের ভাষ্য, এটি প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো পুরার্কীতি। এটি জাদুঘরে সংরক্ষণ করার কথা এবং সেটি বাস্তবায়নে প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পুরাকীর্তি সংরক্ষণ ব্যক্তিগতভাবে করা যায় না।