‘জলসিঁড়ি’ সম্মাননা পেলেন তিন গুণী

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন জলসিঁড়ি পাঠাগারের উদ্যোগে তিন গুণীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়
প্রথম আলো

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন জলসিঁড়ি পাঠাগারের উদ্যোগে তিন গুণীকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রশান্ত কুমার রায়।

অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘প্রিয় নয়, সত্য হতে চাই’। এ উপলক্ষে প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে রবীন্দ্র-নজরুল মঞ্চে ‘আত্মজাগরণে পাঠাগারের ভূমিকা’ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাঠাগারের সভাপতি মানেশ চন্দ্র সাহা এতে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে সম্মাননা পাওয়া তিনজন হলেন লেখক ও অনুবাদক ফারুক মঈনউদ্দিন, লেখক ও সাংবাদিক কাজী আলিম-উজ-জামান এবং কবি কুশল ভৌমিক। সমাজ ও সাহিত্যে বিশেষ অবদান রাখার জন্য তাঁদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও প্রশংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। এর আগে বিকেল পাঁচটার দিকে পাঠাগারের একটি কক্ষে বঙ্গবন্ধু কর্নারের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রশান্ত কুমার রায়।

পাঠাগার সূত্রে জানা গেছে, গাভিনা গ্রামের দীপক সরকারের প্রচেষ্টায় ২০০২ সাল থেকে এলাকার কয়েকজন তরুণ মিলে জলসিঁড়ি অধ্যয়নসভা নামে একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলেন। এরপর ২০১২ সালে জলসিঁড়ি পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত ওই পাঠাগারে বর্তমানে প্রায় ১৩ হাজার বই রয়েছে। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী মিলে প্রতিদিন শতাধিক পাঠকের সমাগম ঘটে পাঠাগারটিতে।

পাঠাগারটির প্রতিষ্ঠার বছর থেকে প্রতিবছর দেশের বরেণ্য লেখক, সাংবাদিক, গবেষক, কবি, সাহিত্যিক, ভাষাসৈনিক, মুক্তিযোদ্ধা ও চিকিৎসককে সম্মাননা দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত ৪৪ জন বরেণ্য ব্যক্তিকে জলসিঁড়ি সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

সম্মাননা অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মতীন্দ্র সরকার, দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জান্নাতুল ফেরদৌস আরা, বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমির পরিচালক সুজন হাজং, জেলা উদীচীর সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান, পাঠাগারের উপদেষ্টা ও বিরিশিরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রহুল ইসলাম প্রমুখ।