বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিলটি ভোলার সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে। এর নাম সদুরচর বিল। ১২ মাসই বিলটিতে পানি জমে থাকায় কৃষকেরা কোনো ফসল ফলাতে পারছেন না। সদর উপজেলা কৃষি বিভাগ বিলের পানিনিষ্কাশনের জন্য এক বছর আগে একটি নালা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু আজও সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘সদুরচর বিলের সমস্যা নিয়ে উপজেলা ও জেলার মাসিক উন্নয়ন সভায় আলোচনা হয়েছে। ২০২০ সালের প্রথম দিকে জাপানের সাহায্য সংস্থা জাইকা সদুরচর বিলের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে নালা নির্মাণের জন্য একটি স্কিম তৈরি করে দিতে বলে। তাদের আমরা নালা নির্মাণের জন্য একটি স্কিম তৈরি করে দিয়েছি। তারপর যখনই এ কাজের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাই, তখনই তারা বলে “এই দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে।” দুই বছর ধরে এমনই চলছে।’

সদুরচর বিলটি পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। এ ব্লকে কর্মরত আছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, সদুরচর বিলে প্রায় ৬০০ একর তিন ফসলি জমি আছে। রবি মৌসুমে ৫০০ একরের মতো জমিতে বোরো আবাদ হতো।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানান, ৬০০ একরে ধান আবাদ করলে বছরে সাড়ে ৭ কোটি টাকার ধান উৎপাদন সম্ভব। তবে সবজি বা অন্য ফসল আবাদ করলে বছরে ২৭ কোটি টাকার ফসল ফলানো সম্ভব।

সদুরচর হাক্কাঘাটার বাসিন্দা আবদুল মান্নান (৫৭)। তিনি পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে সদুরচর বিলে চার একর জমি বন্ধক নিয়েছিলেন। কিন্তু জলাব্ধতার কারণে পাঁচ বছর চাষাবাদ করতে পারছেন না। এখন অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আবু জাফর ও জাইকার প্রকৌশলী এনামুল হক বলেন, সদুরচর বিলের পানিনিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ করতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এখনো দরপত্র মূল্যায়ন হয়নি। দ্রুত পাকা নালার কাজ শুরু হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন