বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। জলাশয় ভরাট করতে হলে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অনুমোদন লাগে। এ ক্ষেত্রে সেটাও করা হয়নি।
মোহাম্মদ কামরুল হাসান, জেলা প্রশাসক

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর বলেন, ‘সরকারি সংস্থা যদি জলাশয় ভরাট করে স্থাপনা করে, তাহলে আমরা কোথায় যাব? অবিলম্বে এ ধরনের পরিবেশবিধ্বংসী কাজ বন্ধ করা হোক।’

উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াজুরি মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ৩০১৭ দাগে ১১ একর জমি আছে। জায়গাটি মূলত জলাশয়। সারা বছর সেখানে পানি জমে থাকে। কচুরিপানা, ঘাস, গাছগাছালির সঙ্গে সেখানে বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর আবাসস্থল। ২০১৮ সালের ২৩ অক্টোবর ‘কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার পুনর্নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পের অধীনে ৬২৪ কোটি ৯৮ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে সেখানে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কারাগার কর্তৃপক্ষ পুরো ১১ একর জমি নিজেদের দাবি করে জলাশয়ের দক্ষিণ পাশে ১৪ তলাবিশিষ্ট ৩টি ও পূর্ব পাশে ২টি ভবন নির্মাণ করছে। ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বমুখী ভবন গড়েও উঠেছে।

গত বছরের জুলাই মাসে জলাশয়ের ১১ একর জমির মালিকানা দাবি করে সেখানে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন জেলা প্রশাসক। এতে উল্লেখ করা হয়, ‘সর্বসাধারণের অবগতির জন্য, নিম্নবর্ণিত তফসিলভুক্ত জমির মালিক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পক্ষে জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা।’ সাইনবোর্ডে জমির দাগ ও খতিয়ান উল্লেখ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ২ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার মো. শাহজাহান কুমিল্লা যুগ্ম জেলা জজ-১ আদালতে ওই জমির মালিকানা দাবি করে মামলা করেন। মামলায় জেলা প্রশাসককে বিবাদী করা হয়। আদালতে মামলা চলছে। কিন্তু নিষ্পত্তির আগেই সেখানে নির্মাণকাজ চলমান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জলাশয়ের দক্ষিণ পাশে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর কাজী মমিনুল হক সড়ক। পশ্চিমে রেসকোর্স আবাসিক এলাকা। উত্তরে কুমিল্লা বোটানিক্যাল গার্ডেন, জেলা প্রশাসকের বাংলো ও মহাফেজখানা। পূর্বে ছোটরা সড়ক। জলাশয়ের মধ্যবর্তী জায়গায় ৩টি ১৪ তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে ট্রাক্টর দিয়ে মাটি ভরাটের কাজও চলছে। এ ছাড়া পূর্ব পাশে সড়ক ঘেঁষে জলাশয়ের মধ্যে দুটি ভবন বানানো হয়েছে। সেখানেও মাটি ভরাট করা হচ্ছে।

জ্যেষ্ঠ জেল সুপার মো. শাহজাহান বলেন, জলাশয়ের মালিক কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। সেখানকার তিনটি ভবনে কারারক্ষী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা থাকবেন। দুটি ভবন জ্যেষ্ঠ জেল সুপার ও জেল সুপারের থাকার জন্য করা হয়েছে। পুরো ১১ একর জমির মালিক কারাগার কর্তৃপক্ষ। কারাগার পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে সেখানে উন্নয়নকাজ চলছে। জেলা কালেক্টরেটের (জেলা প্রশাসক) নামে জমির মালিকানার বিষয়ে তিনি বলেন, তখন জেলা কালেক্টরেটের নামেই কারাগারের জমি ছিল। সরকার যেহেতু উন্নয়নকাজের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। তাই স্থাপনা করতে কারও অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। জলাশয় ভরাট করতে হলে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অনুমোদন লাগে। এ ক্ষেত্রে সেটাও করা হয়নি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন