এতে খোকন সিকদার নামের এক গাড়িচালক নিহত হন। পরের দিন রাতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। সোমবার সকাল থেকে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হলেও পদ্মা পাড়ি দিতে ফেরিগুলোর বাড়তি সময় লাগছে।

ঝালকাঠির রাজাপুর থেকে বাসার মালামাল নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছেন সুজন হোসেন। তিনি গতকাল দুপুরে সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ঘাটে আসেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত ফেরি পার হতে পারেননি। রাতে ঘাটে গাড়ির মধ্যে অপেক্ষা করেছেন। আজ সকালে তিনি বলেন, ‘পদ্মা নদী পার হওয়ার জন্য ঘাটে বসে আছি। ২০ ঘণ্টা ধরে বসে আছি। বৃষ্টি-কাদার মধ্যে ঘাটে অপেক্ষা করা যে কত কষ্টের, তা বলে বোঝাতে পারব না।’

মাদারীপুরের রাজৈর থেকে মুরগি নিয়ে ঢাকায় যাবেন লোকমান হোসেন সরদার। তিনি সোমবার বিকেল থেকে ঘাটে বসে আছেন। কিন্তু ফেরিতে উঠতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘বিকেলে ঘাটে আসার পর চারটি ফেরি ছেড়ে গেছে। এরপর রাতে আর কোনো ফেরি আসেনি। সকাল থেকে আবার ফেরি চলছে। কখন আমার গাড়ি নিয়ে ফেরি ধরতে পারব, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। দ্রুত ঢাকায় পৌঁছতে না পারলে মুরগিগুলো মরে যেতে পারে।’

জাজিরা ঘাটে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মুজাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ঘাটে এসে গাড়ি আটকে যাচ্ছে। তীব্র যানজটে পড়ে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গুরুত্ব বুঝে জরুরি সেবার গাড়িগুলো আগে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ঘাটের ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, নদীতে প্রচণ্ড স্রোত থাকায় ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। দুর্ঘটনা এড়াতে রাতে ফেরি চালানো বন্ধ রাখা হয়েছে। আপাতত সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নৌপথে ফেরি চলবে। এ কারণে ঘাটে গাড়ির চাপ বেড়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন