এর আগে চাঁদাবাজির বিষয়ে ২০ এপ্রিল ‘টাকা দিয়ে আগে ফেরি পারাপার’ শিরোনামে প্রথম আলোতে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার এস এম আশ্রাফুজ্জামানের নেতৃত্বে ঘটনাটি নিয়ে জাজিরার পদ্মা দক্ষিণ থানা তদন্তে নামেন। তদন্তে গাড়ি চালকদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার সঙ্গে শহীদ চেংগা, মাহাবুব মাদবর ও জলিল শেখের সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ। এরপর সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাত্তার মাদবর–মঙ্গল মাঝির ঘাট এলাকা থেকে শহীদ চেংগাকে আটক করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে চাঁদাবাজির ৭ হাজার ৩০০ টাকা জব্দ করা হয়।

আগেভাগে ফেরি পারাপার হতে শরীয়তপুরের জাজিরা-শিমুলিয়া নৌপথের সাত্তার মাদবর–মঙ্গল মাঝির ঘাটে পণ্যবাহী ট্রাকের চালকদের অতিরিক্ত টাকা দিতে হতো বলে অভিযোগ ছিল। ট্রাফিক পুলিশের সামনেই এই চাঁদা আদায় করা হতো বলে ট্রাক চালকেরা অভিযোগ করেছিলেন।

জরুরি কাঁচামালবাহী গাড়ির চালকদের অভিযোগ, রাতে ঘাটে আসা গাড়িগুলোকে দ্রুত ফেরির সিরিয়াল পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় শহীদ চেংগা নামের এক ব্যক্তি ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা নেন। টাকা নেওয়ার পর তিনি যে গাড়িগুলোকে সামনের দিকে পাঠান ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা সেই গাড়িগুলোকে ফেরিতে ওঠার সুযোগ করে দেন। এ বিষয়ে কোনো চালক প্রতিবাদ করলেই তাঁকে মারধর করা হয়।

শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার এস এম আশ্রাফুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন ঘাটকেন্দ্রিক স্থানীয় চক্র নানা অপরাধে জড়ায়। তারা মানুষকে হয়রানি করে। বিভিন্ন উৎসব ঘিরে তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তেমনি শহীদ চেংগার একটি বাহিনী চাঁদাবাজি করছিল। তাদের হাতেনাতে ধরে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

জাজিরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক আহম্মদ বলেন, পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি ও চাঁদা আদায়ের ধারায় তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারের পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন