অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের সাবজেক্ট অধিভুক্তিকরণপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় কমিটির (বেসক) উদ্যোগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মানববন্ধন শুরু হয়। এ সময় শিক্ষকেরা বলেন, ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন কলেজে সরকারি বিধি-নিয়ম অনুযায়ী অনার্স-মাস্টার্স ক্লাসের জন্য শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু নিয়োগের সময় থেকে এখন পর্যন্ত ওই সব কলেজে বিষয়গুলো অধিভুক্ত করা হয়নি। এ কারণে নিয়োগপ্রাপ্ত সব শিক্ষকের কর্মজীবন ঝুলে আছে। তাঁরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
সংগঠনের সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, ‘শিক্ষকদের সমাজের আলোকিত মানুষ বলা হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের অবস্থা আজ আলোশূন্য। তিন বছর আগে বিধি মোতাবেক নিয়োগ পেলেও আজ পর্যন্ত সাবজেক্ট পাইনি। কলেজ আছে, কিন্তু শিক্ষা দেওয়ার সুযোগ নেই।’

কমিটির সাধারণ সম্পাদক মানিক খন্দকার বলেন, ‘২০১৭ সালে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট মহিলা কলেজে নিয়োগ পেয়েছি। সবকিছু ঠিকঠাক রয়েছে। শুধু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অধিভুক্তের চিঠি পেলেই সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু তিন বছর হয়ে গেলেও চিঠি পাচ্ছি না।’

রাজধানীর দক্ষিণখানের কাঁচকুড়া কলেজে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক ফাতেমা জাহান বলেন, অধিভুক্তের দাবিতে এর আগেও গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করা হয়। কিন্তু কোনো ফল আসেনি। তাঁর প্রশ্ন, জীবন যদি এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেবে, তাহলে কেন নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল?

এ সময় আরও বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ ধারা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, কাঁচকুড়া কলেজের সাইফুর রহমান, রাজশাহীর নদচল মহিলা কলেজের ফেরদৌস হাসান, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী মহিলা কলেজের শিক্ষক মোজাম্মেল হক প্রমুখ।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মশিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। কিন্তু অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত আমরা বলব না, তারা আমাদের সঙ্গে আছেন। আমার ধারণা, যাঁরা এখন দাবিদাওয়া ও মানববন্ধন করছেন, তাঁরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত নন। যাঁকে আমরা প্রোগ্রাম দিইনি, তাঁর বিষয়ে আমরা কী বলব? তবে তাঁরা যদি শান্তিপূর্ণভাবে দাবি করেন, তাহলে তাঁদের বিষয়টি সমাধান করার জন্য আলোচনা করা যেতে পারে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন