default-image

স্বামীকে হারানোর পর তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন আগেই। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের শিংরাউলী গ্রামে বাড়িতে একমাত্র ছেলেকে (১৪) নিয়ে থাকতেন বিধবা জয়তুন নেছা (৫০)। এর মধ্যে জ্বর, বমি ও শ্বাসকষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়লে ৬ জুন তিনি যান মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে। লক্ষণ দেখে চিকিৎসকেরা তাঁর করোনার (কোভিড-১৯) নমুনা সংগ্রহ করেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।

তবে শমশেরনগর ইউনিয়নের শিংরাউলী গ্রামে নিজ বাড়িতে অবস্থানরত অবস্থায় এই অসুস্থ নারী প্রতিবেশী ও গ্রামের একটি গোষ্ঠীর করোনা নিয়ে অপপ্রচারে পড়েন বিড়ম্বনায়। এতে ওই নারী আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীকালে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নির্দেশনায় ওই নারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১১ জুন মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে বিকেলে সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এদিকে তখনো ওই নারীর করোনা পরীক্ষার প্রতিবেদন আসেনি। অবশেষে গতকাল বুধবার রাতে তাঁর করোনা ‘নেগেটিভ’ প্রতিবেদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে পৌঁছেছে।

বেঁচে থাকতে তো বটেই, মারা যাওয়ার পরও বিধবা নারীর জানাজা ও দাফন নিয়ে গ্রামে শুরু হয় নতুন অপপ্রচার ও জটিলতা। ১১ জুন রাতে গ্রামে তাঁর লাশ এনে জানাজা শেষে গ্রাম্য কবরস্থানে দাফন করতে তাঁর সন্তানেরা বাধার সম্মুখীন হন। এমনকি জানাজায় আত্মীয়স্বজনকেও আসতে বাধা দেন গ্রামবাসী। পরে কোনোরকমে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করেন সন্তানেরা।

মৃত ওই নারীর বড় মেয়ে লুনা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাঁদের তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেলে বাড়িতে ছোট ভাই হাসানকে নিয়ে একাই থাকতেন মা। মায়ের অ্যাজমার সমস্যা ছিল। এর মধ্যে জ্বর হলে কোনো খাবার খেতে না পেয়ে বমি করায় ৬ জুন কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়া হয়। তখনই করোনা পরীক্ষার জন্য তাঁর মায়ের নমুনা দেওয়া হয়েছিল। নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পেতে বিলম্ব হওয়ায় গ্রামে একদল লোক গুজব রটিয়ে দেয়, তাঁর মায়ের করোনা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা গ্রামবাসীকে জানান, করোনা ‘পজিটিভ’ হলে দ্রুত ফলাফল পাওয়া যায়, আর ‘নেগেটিভ’ হলে কিছুটা বিলম্ব হয়। কিন্তু এরপরও গ্রামের মানুষ তা মানতে রাজি হননি।

লুনা বেগম আরও বলেন, মায়ের জানাজায় তাঁর নানাবাড়ি ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন আসতে চাইলে করোনার গুজব চালিয়ে পতনউষার ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্য তাঁদের আসতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিলেন।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এম মাহবুবুর আলম ভূঁইয়া বলেন, শুরু থেকেই তাঁদের মনে হয়েছিল, জয়তুন নেছা করোনায় সংক্রমিত ছিলেন না। শেষমেশ পরীক্ষার প্রতিবেদনে সেটা প্রমাণিত হলো। করোনা রোগীদের প্রতি মানবিক হতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ করোনা সংক্রমিত হলে আইসোলেশনে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠবেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0