প্রশাসন আরও জানিয়েছে, প্রবেশ ফির টিকিট দেখালে পর্যটকেরা নির্ধারিত খরচে সহজেই ট্যুর গাইড, ফটোগ্রাফার ও নৌকা ভাড়া করতে পারছেন। পাশাপাশি বিনা মূল্যে ওয়াই-ফাই সেবাও পাচ্ছেন। এ ছাড়া জাফলংয়ে পোশাক বদলের কক্ষ ও টয়লেটের সুবিধাও পর্যটকেরা বিনা মূল্যে পাচ্ছেন। ফি থেকে পাওয়া টাকা থেকে জাফলং পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা খাতেও খরচ করা হচ্ছে।

তবে পর্যটকেরা অভিযোগ করেছেন, পোশাক বদলের কক্ষ ও টয়লেটের সংখ্যা জাফলংয়ে অপ্রতুল। এ ছাড়া যেগুলো আছে, সেগুলোও অপরিচ্ছন্ন থাকে সব সময়। ইন্টারনেটের গতিও খুব দুর্বল।

সিলেটের নাট্য সংগঠক হুমায়ূন কবির বলেন, পর্যটকদের কাছ থেকে ফি রাখার বিষয়টি একেবারেই অনুচিত। কোনো প্রাকৃতিক পর্যটনস্থান দেখার জন্য সাধারণ মানুষকে টাকা দিতে হবে, এটা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। মানুষের বিনোদনের স্বার্থেই পর্যটনকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সরকার প্রয়োজনে এ ক্ষেত্রে ভর্তুকি দিয়ে ব্যবস্থাপনার বিষয়টি করতে পারে। দ্রুত এই ফি রাখার ব্যবস্থা বাতিল করা উচিত।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবেশের ফি আদায় নিয়ে পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমানের নির্দেশে গতকাল শুক্রবার থেকে সাত দিন পর্যটকদের থেকে কোনো ধরনের টিকিট বাবদ টাকা আদায় করা হবে না বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে জাফলং ভ্রমণের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

জাফলং পর্যটন উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ও গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিলুর রহমান বলেন, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা খরচ বাদে গত সাত মাসে ফি বাবদ আয়কৃত প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। মূলত জাফলংকে একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় আনতে পর্যটন উন্নয়ন কমিটি সভা ডেকে সর্বসম্মতিক্রমে ফি রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

তাহমিলুর রহমান আরও বলেন, ‘ফি চালু করা হয়েছিল জাফলং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখার স্বার্থেই। পর্যটনবান্ধব এলাকা গড়তেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিছু বেনিফিটও এসেছে। তবে এ সিস্টেমটি জোর করে আমরা চালিয়ে যেতে চাই না। সব স্টক হোল্ডারের মতামতের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আর পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে জাফলংয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।’

জাফলংয়ের স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবারের হামলার পর পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। এ অবস্থায় গতকালও হাজার হাজার পর্যটক জাফলংয়ে বেড়াতে এসেছেন। আজ শনিবার সকাল থেকেও পর্যটকেরা জাফলংয়ে আসতে শুরু করেছেন।

আক্কাছ উদ্দিন (৪৯) নামের এক পর্যটক আজ সকালে সপরিবার জাফলংয়ে বেড়াতে এসেছেন। তাঁর বাসা সিলেট নগরের মধুশহীদ এলাকায়। তিনি জানান, সকালে অসংখ্য পর্যটক ভিড় জমিয়েছেন। এখন জাফলংয়ে ঢুকতে তাঁদের কোনো ফি দিতে হচ্ছে না। তবে এই ফি রাখার বিধানটি পুরোপুরি তুলে নেওয়া উচিত। পর্যটকদের ফির টাকায় নয়, সরকারি অর্থায়নে জাফলং তদারকের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর আগের জেলা প্রশাসকের সময়ে জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির এক সভায় জাফলংয়ে প্রবেশ ফি নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। যেহেতু একটি সভার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাই এ কমিটি আরেকটি সভা ডেকে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। আগামী এক সপ্তাহ পর এ সভা ডাকা হবে বলে তিনি জানান।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন