বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পঞ্চগড় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলমগীর বলেন, ইউপি নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে সরকারি কোষাগারে পাঁচ হাজার টাকা করে জামানত দিতে হয়। সেই জামানতের টাকা ফেরত পেতে ওই ইউনিয়নের ভোটকেন্দ্রগুলোতে মোট প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগ পেতে হয়। যেসব প্রার্থী এই পরিমাণ ভোট পাবেন না, তাঁদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে।

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি পাঁচজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। এখানে ৮ হাজার ১২৬ জন ভোট দেন। জামানত বাঁচাতে হলে চেয়ারম্যান পদের একেকজন প্রার্থীকে সর্বনিম্ন ১ হাজার ১৬টি ভোট পেতে হবে। সেই হিসাবে আটজন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনই তাঁদের জামানত হারিয়েছেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. শেখ কামাল মাত্র ৩৩৪টি ভোট পেয়েছেন। জাকের পার্টির আবদুল হালিম ২০টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবু তালেব ৯৯টি, অটোরিকশা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী রবিউল ইসলাম ৭৫টি এবং ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজিয়ার রহমান মাত্র ৮টি ভোট পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন।

উপজেলার ভজনপুরে চেয়ারম্যান পদের পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে দুজন জামানত হারিয়েছেন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হারুন অর রশিদ ও ইসলামী আন্দোলনের জাকির হোসেন। তেঁতুলিয়া সদর ইউপিতে চারজন প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী (আ.লীগের বিদ্রোহী) ইনসান আলী জামানত হারিয়েছেন। তীরনই হাট ইউপিতে পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারিয়েছেন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল মালেক ও আনোয়ার হুসাইন এবং জাকের পার্টির রুবেল রানা। বাংলাবান্ধা ইউপিতে তিনজন প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি নেতা) রাশেদ আলী জামানত হারিয়েছেন। শালবাহান ইউপিতে চারজন প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের সাইফুল ইসলাম জামানত হারিয়েছেন। তবে দেবনগর ইউপিতে চারজন প্রার্থীর কেউই জামানত হারাননি।

দলের দুই প্রার্থীর জামানত বাতিলের বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদুর রহমান বলেন, ভজনপুরে অনেক আগে থেকেই আওয়ামী লীগের ভোট কম। এ ছাড়া বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী শেখ কামালের বড় ভাই মো. কামরুজ্জামান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তিনি শুনেছেন, শেখ কামাল শেষ সময়ে তাঁর বড় ভাইকে সমর্থন দিয়েছিলেন। এটা দলীয় সিদ্ধান্তের পরিপন্থী। বিষয়টি তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন