বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পণ্য কিনতে আসা এক কলেজছাত্র বলেন, ‘বাজারে সব জিনিসের দামে আগুন। তেলের দাম বাজারে সব থেকে বেশি। বাবার রোজগার বন্ধ। ফলে মায়ের অনুরোধে টিসিবির পণ্য কিনতে এসেছি। একটু কম দামে পণ্য কেনা যায়, তাতেই অনেক মানুষের ভিড়। এক ঘণ্টার যুদ্ধে এক কেজি চিনি, এক কেজি ডাল ও দুই লিটার তেল কিনতে পারছি। তবে এখানে যে অবস্থা, তাতে করোনা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

এ স্থানের ডিলার নজরুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ময়মনসিংহের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিবারে ৭০০ কেজি চিনি, ৩০০ কেজি ডাল ও ১ হাজার লিটার তেল বরাদ্দ পান। গত এক মাসে একবার বরাদ্দ পেয়েছেন। আজ সকাল ১০টার দিকে তাঁর পয়েন্টে ওই সব পণ্য বিক্রি শুরু করেন। কিন্তু ক্রেতার তুলনায় তাঁর বরাদ্দ সামান্য। ফলে এত হট্টগোল।
নাজমা আক্তার নামের এক নারী টিসিবির পণ্য কিনতে সকাল আটটা থেকে গেটপাড় এলাকায় অবস্থান করছেন। কিন্তু তাঁর ভাগ্যে টিসিবির পণ্য জোটেনি। তিনি বলেন, স্বামী ইজিবাইকচালক। কঠোর বিধিনিষেধের কারণে ইজিবাইক চলাচল বন্ধ। ঘরে টাকাও নেই। কম দামে এসব পণ্য কিনতে এসেছিলেন। ভিড় আর ধাক্কাধাক্কির কারণে তিনি ট্রাক পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি।

নাজমার মতো অবস্থা শিউলি বেগমেরও। তিনি বলেন, ‘এভাবে যুদ্ধ করে পণ্য কিনব কীভাবে? প্রথম দিকে ট্রাকের কাছাকাছি গিয়েছিলাম। কিন্তু মানুষের চাপ আর গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ি। ফলে সেখান থেকে চলে আসছি। কিন্তু ভাগ্য খারাপ। পণ্য শেষ হয়ে গেছে।’

ডিলার নজরুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে তাঁর নিজের পাঁচ কর্মী ও চার পুলিশ সদস্য রয়েছেন। কিন্তু লোকজন যে যার মতো ধাক্কাধাক্কি করে শুধু ট্রাকের দিকেই যেতে চান। ফলে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করা যাচ্ছে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন