মানববন্ধনে বক্তব্য দেন দয়াময়ী মন্দির পরিচালনা পরিষদের সহসভাপতি লক্ষ্মীকান্ত পণ্ডিত, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) সিদ্ধার্থ শংকর রায়, জামালপুর জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি প্রদীপ কুমার, রাধামোহন জিউ মন্দির পরিচালনা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন কুমার সিংহ ও শুভাশীষ তালুকদার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের জামালপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক রমেন বণিক প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ৭০ শতাংশ জমির ওপর ১১০৪ বঙ্গাব্দে (বাংলা) জায়গিরদার কৃষ্ণ রায় চৌধুরী একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তা জামালপুর শহরে দয়াময়ী মন্দির নামে পরিচিত। ওই মন্দিরের পাশেই ২৯ শতাংশ জমির ওপর ১৩১৪ বঙ্গাব্দে রাজেন্দ্র রায় চৌধুরী রাধামোহন জিউ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। মন্দির দুটি ৩২৭ বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই মন্দির দুটি ‘জাগ্রত মন্দির’ হিসেবে পরিচিত। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল, এমনকি বিদেশ থেকেও ভক্তরা মন্দির দুটিতে বিভিন্ন উপচার মানত করে পূজা দিতে আসেন।

বক্তারা আরও বলেন, মন্দির দুটির ভাবগাম্ভীর্য নষ্ট করতে জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্প্রতি জামালপুর চেচুয়া-মুক্তাগাছা সড়ক প্রশস্তকরণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ওই দুটি মন্দিরের প্রায় ৫ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে মন্দিরের চারপাশের জায়গা সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। ভক্তরা আগের মতো সঠিকভাবে উপচার মানত করতে পারেন না। ক্রমেই মন্দির দুটির ভাবগাম্ভীর্য নষ্ট হচ্ছে। মন্দির দুটির একমাত্র আয়ের উৎস বাণিজ্যিক ভবন দুটিও ভাঙার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। তারা আশ্বাস দিয়েছিল, মন্দিরের জমি নেওয়া হবে না। কিন্তু তাদের আশ্বাস সঠিক ছিল না। তারা কৌশলে মন্দিরের জমি অধিগ্রহণের দিকে গেছে।

বক্তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মন্দির দুটি নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে একটি চক্র। সেই ধারাবাহিকতায় জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে মন্দির ভাঙার চেষ্টা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় জামালপুর থেকে সারা দেশে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন