default-image

জামালপুরে যমুনার পানি বাড়া ও কমার মধ্যেই আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানি ৩ সেন্টিমিটার কমেছে। তবে যেটুকু কমছে, তাতে বন্যা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হচ্ছে না। পানি বিপৎসীমার অনেক ওপরেই আছে এখনো। যে কারণে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও মাঠঘাটে এখনো আছে বন্যার পানি।

দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দী থাকায় দুর্গত এলাকার মানুষ খাবারের সংকটসহ নানা সমস্যা মোকাবিলা করছেন। দুর্গত এলাকায় ছিল না ঈদের কোনো আনন্দ। ঈদের দিন অনেকে রান্না পর্যন্ত করতে পারেননি। কোথাও হয়নি কোরবানি। টানা দেড় মাসের বন্যায় মানুষ চরম কষ্টে রয়েছেন।

আজ সোমবার সকাল নয়টার দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানি পরিমাপক (গেজ রিডার) আব্দুল মান্নান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ সেন্টিমিটার পানি কমে বিপৎসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির তেমন একটা উন্নতি হচ্ছে না। যমুনা নদীবেষ্টিত অঞ্চলগুলো এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে।

একে একে তিন দফার বন্যায় ১০ লাখ মানুষ এখন বিপর্যস্ত। তবে কয়েক দিন থেকে ঘরবাড়ি থেকে পানি নামতে শুরু করে। অনেকের ঘরবাড়ি থেকে পানি নেমে গেলেও নিম্নাঞ্চলের প্রত্যেকের ঘরে এখনো পানি রয়েছে। তার মধ্যে পানি একবার বাড়ে, আবার কমে। এতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে আছেন বানভাসিরা। বহু মানুষ এখনো বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, সড়কের পাশে ও সেতুর ওপর আশ্রয় নিয়ে আছেন। টানা দেড় মাস ধরে মানুষ বন্যাকবলিত অবস্থায় আছেন। মানুষের কাজকর্ম নেই। হাতে টাকা নেই। ঘরবাড়ি জলমগ্ন। সব মিলিয়ে অভাবে দিশেহারা উপার্জনহীন বন্যার্ত মানুষ।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সাতটি উপজেলার ৫৯টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। একই সঙ্গে ৮টি পৌরসভাও বন্যাকবলিত হয়েছে। ওই ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৬৭৭টি গ্রামের ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৭০৭ জন মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় আছেন। ইতিমধ্যে ১২ হাজার ৪২৮ হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0