default-image

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জামিনের আদেশনামা জালিয়াতির অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ২ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ৫ নম্বর আমলি আদালতে মামলাটি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা সেফুল মিয়া একটি মামলার ১ নম্বর আসামি ছিলেন। বিচারকাজে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাঁকে এক বছরের সাজা দেন। আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক। এ কারণে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে আসামি সেফুল মিয়াকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তাঁদের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানায়, সেফুল আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। তাঁরা জামিনের আদেশনামা পুলিশকে দেন। পরে পুলিশ গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ জামিনের কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট আদালতে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।

বিজ্ঞাপন

সেখানে মামলার মূল নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেফুল আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি। এমনকি জামিনও নেননি। এ ছাড়া ওই জামিনের আদেশে সংশ্লিষ্ট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের সই ও সিল জালিয়াতি করা হয়। এরপর আদালতের নির্দেশে পুলিশ তদন্ত করে এ ঘটনায় রাউৎগাঁও ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নোমান আহমদ, সেফুল মিয়া ও সেফুলের আত্মীয় সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পালবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সুমন আহমদের জড়িত থাকার প্রমাণ পায়। এর মধ্যে ইউপি সদস্য নোমান জনপ্রতিনিধির পাশাপাশি এক আইনজীবীর সহকারী হিসেবেও কাজ করেন। পরে পুলিশ আদালতে এ ব্যাপারে প্রতিবেদন পাঠায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
কুলাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, আসামিরা পলাতক। তবে তাঁদের গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চলছে।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে ইউপি সদস্য নোমান আহমদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন