default-image

তিন মামলায় জামিন লাভের পর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল। তিনি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ১০ মিনিটের দিকে তিনি কারাগার থেকে ছাড়া পান।

মিজানুর রহমান কোম্পানীগঞ্জে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। বসুরহাট পৌরসভার মেয়র ও সেতুমন্ত্রীর ভাই আবদুল কাদের মির্জার সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব চলে আসছে।

নোয়াখালী জেলা কারাগারের জেলার এমরান হোসেন মিজানুরের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আজ বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মঙ্গলবার দুপুরের পর কারাগার থেকে মিজানুর রহমানের জামিনের আদেশ কারাগারে পৌঁছায়। এরপর বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে তাঁকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নবনীতা গুহ তিনটি মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমানের জামিন মঞ্জুর করেন। তিনটি মামলার মধ্যে একটি পুলিশের ওপর হামলার মামলা। আর অপর দুটি সেতুমন্ত্রী কাদের মির্জার অনুসারীদের দায়ের করা মামলা।

বিজ্ঞাপন

চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জিআরও (জেনারেল রেজিস্ট্রার অফিসার) জসিম উদ্দিন ও মিজানুর রহমানের আইনজীবী হারুনুর রশীদ হাওলাদার জামিনের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ১১ মার্চ বিকেলে নোয়াখালী প্রেসক্লাব এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। পরে পুলিশ মোট তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে সরকার, নির্বাচন, দলের নেতা ও সাংসদদের বিরুদ্ধে নানা ‘সত্যবচনে’ আলোচনায় আসেন সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা। সেই ‘সত্যবচন’ ১৯ ফেব্রুয়ারি কোম্পানীগঞ্জের চাপরাশিরহাট বাজারে আবদুল কাদের মির্জা ও মিজানুর রহমান বাদল সমর্থকদের মধ্যে সংঘাতে রূপ নেয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি মারা যান।

এরই পর ৯ মার্চ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভা চত্বরে রাত ৯টার দিকে আবদুল কাদের মির্জা ও মিজানুর রহমানের অনুসারীদের মধ্যে পুনরায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবলীগের এক কর্মীও মারা যান। তাঁর নাম আলাউদ্দিন (৩২)। এ ঘটনার পর উভয় পক্ষে থানায় এবং আদালতে একাধিক পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন