default-image

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘এমভি একরাম’ সংরক্ষণ করে সেখানে জাদুঘর করা হবে, যাতে মুক্তিযুদ্ধকালের নেভাল কমান্ডোর ইতিহাস সারা বিশ্বের মানুষ জানতে পারে।
বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার সোনাকান্দা এলাকায় কর্ণফুলী ডকইয়ার্ডে এ যুদ্ধজাহাজ পরিদর্শন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী সাংসদ শাজাহান খান, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সেলিম রেজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক, বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক কাজী ওয়াকিল নওয়াজ, নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল প্রমুখ।
যুদ্ধজাহাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত জাহাজটি সংস্কার করে ভালো একটি স্থানে রাখা হবে। এই জাহাজ আমাদের একটি নিদর্শন। জাহাজটি সংরক্ষণের জন্য দুটি জায়গা পছন্দ করা হয়েছে। একটি মাদারীপুরের এসপিটিআই প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও অপরটি চাঁদপুরের নদীবন্দরের পাশে।’

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, ‘ছয়টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে বিআইডব্লিউটিএ, বুয়েট, চিফ আর্কিটেক্ট, নেভাল, জাদুঘরের প্রতিনিধি থাকবেন। তাঁরা এক মাসের মধ্যে দুটি কাজ করবেন। একটি হলো তাঁরা স্থান চূড়ান্ত করবেন এবং দ্বিতীয় এটাকে আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তুলতে কী কী ধরনের ডিজাইন করা যায়, কী কী থাকতে পারে, সে বিষয়ে তাঁরা আইডিয়া দেবেন। আমরা বিদেশেও দেখি এ ধরনের বিভিন্ন সামগ্রী সংরক্ষণ করতে। ওই কমিটি আইডিয়া ও বাজেট দেওয়ার পর সেটা নিয়ে আমরা কাজ করব এবং অর্থ পাসের বিষয়ে পদক্ষেপ নেব।’
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনে বাধা প্রসঙ্গে সাংবাদিকেরা তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মন্ত্রী মোজাম্মেল হক বলেন, ‘কত মানুষ রাস্তাঘাটে, এখানে-সেখানে কত কথা বলে। এটি আমলে নেওয়ার মতো ঘটনা বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না। আমাদের এই সরকার অত্যন্ত সক্ষম ও দায়িত্বশীল সরকার। সরকার যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তা বাস্তবায়ন করার সক্ষমতাও রাখে।’
শাজাহান খান বলেন, ‘বাংলাদেশে বহু ভাস্কর্য আছে, ঢাকায় বহু ভাস্কর্য আছে। একুশে ফেব্রুয়ারি মায়ের কোলে সন্তানের লাশ—এই ধরনের ভাস্কর্যও ঢাকায় আছে। তা নিয়ে কখনো কেউ প্রশ্ন তুললেন না। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণটা কী, এটা নিয়ে মানুষের কাছে প্রশ্ন রয়েই যায়। আমি মনে করি, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ বন্ধ করার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে।’

মন্তব্য পড়ুন 0