বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

টেকেরহাট-কালীবাড়ি ফিডার সড়কটি ব্যবহার করে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ জেলা ও উপজেলা শহরে যাতায়াত করে। সড়কটি কুমার নদের বেড়িবাঁধ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সূত্র জানায়, সেপ্টেম্বরের শুরুতে কুমার নদের ভাঙন শুরু হয়। ভাঙনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় টেকেরহাট-কালীবাড়ি সড়কের গোয়ালবাথান এলাকা। তাৎক্ষণিক ভাঙন ঠেকাতে সড়কের টেকেরহাট-কালীবাড়ি ফিডার সড়কটির ৮৫ মিটার অংশ চিহ্নিত করে নদের পাড়ে ফেলা হয় ৮ হাজার জিও ব্যাগ। জিও ব্যাগের ডাম্পিং শেষ হওয়ার পরেই নদের পানি কমতে শুরু করে। পানি কমায় আবার ভাঙন শুরু হয়েছে। গত বুধবার ও গতকাল বৃহস্পতিবার ভাঙনে সড়কটির প্রায় ২০০ মিটার নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে প্রায় তিন শ মিটার সড়ক এবং বসতঘর ও ফসলি জমি।

গতকাল বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, গোয়ালবাথান নামক স্থানে প্রায় ২০০ মিটার পাকা সড়ক কুমার নদে বিলীন হয়ে গেছে। সড়কটির কার্পেটিং, বিটুমিন, ইট, বালুসহ জমির মাটি খসে নদে পড়ছে। সড়কটির অন্য পাশে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, উঁচু স্থানে রয়েছে বসতঘরও। সড়কটি দিয়ে কোনো তিন চাকার যানবাহন চলতে পারছে না। ভাঙনের অংশটুকু অনেকেই হেঁটে পার হচ্ছে। পরে তারা ইজিবাইক বা তিন চাকার যানবাহনে করে গন্তব্যে যাচ্ছে।

গোয়ালবাথান এলাকার কৃষক আনিচ মাতুব্বর (৭০) বলেন, ‘৪০ শতাংশ জমিতে আমন ধানের চাষ করছি। এই মুহূর্তে রাস্তাটা নদে ভেঙে জমিতে পানি গেলে আমার সব ধানই নদের পানিতে তলিয়ে যাবে। অনেক ক্ষতির মধ্যে পড়ব আমি।’

নারায়ণ হালদার নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘ক্রমেই ভাঙন আমাদের ফসলি জমির দিকে আসছে। ভাঙন ঠেকাতে নামমাত্র জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে, যা কোনো কাজে আসেনি। সড়ক, ফসলি জমি ও বসতঘর রক্ষায় স্থায়ীভাবে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে।’

কুমারে নদের ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে ফেরদাউস হাওলাদারের বসতঘরসহ ফসলি জমি। তিনি বলেন, কুমার নদ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এই ভয়াবহ ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এখনই ভাঙন রোধ না করা হলে বিদ্যানন্দী মাঠের সব ফসলি জমি নদের পানিতে ডুবে যাবে।

হরিদাসদী-মহেন্দ্রদীর ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, ‘সড়কটি রক্ষার জন্য আমি অনেকবার পাউবো ও উপজেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আশ্বাস দিলেও তাঁরা সেভাবে কোনো কাজই করেননি।’

পাউবোর মাদারীপুর কার্যালয়ের প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম সাহা বলেন, গত মাসে নদের ভাঙনে সড়কটির ৮৫ মিটার অংশের অর্ধেক বিলীন হয়ে গিয়েছিল। তাৎক্ষণিক জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা হয়েছিল। মাদারীপুরে নদ-নদীর ভাঙন রোধে বড় প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে স্থায়ীভাবে নদের শাসন কাজ করে সড়কের পাশে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন