বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সরকারি গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মো. বাদশা সিকদার বলেন, হাফিজুর খুবই মেধাবী। ২০১৫ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও ২০১৮ সালের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় সে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়। এরপর ছেলেটির পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। তখন স্কুলের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে সহায়তার আশ্বাস দিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়। পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ ও কঠোর পরিশ্রমের কারণে সে সফল হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে।

হাফিজুর বলে, ‘দিনে প্রাইভেট পড়িয়ে রাতে নিজের পড়াশোনা করেছি। ঠিকমতো বই-খাতা-কলম কিনতে পারিনি। সহপাঠীদের কাছ থেকে বই এনে নোট করে পড়াশোনা করেছি। ছোটবেলা থেকেই ঘরে খাবার থাকত না, না খেয়েই স্কুলে গিয়েছি। ভালো ফলের খবরে সব ভুলে গেছি।’ তবে সামনের দিনগুলোতে কী হবে, এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে সে।

হাফিজুর বলে, ‘এসএসসিতে সফল হয়েছি, কিন্তু কলেজে কী করে ভর্তি হব? কী করে খরচ জুগিয়ে পড়াশোনা করব? প্রকৌশলী হওয়ার সাধ আছে, কিন্তু সাধ্য কোথায়?’

হাফিজুরের মা রোজিনা আক্তার বলেন, ‘এত কষ্টের মধ্যেও মোর বাজানে যে পরীক্ষায় ভালো পাস করছে, এইয়া আল্লাহর দয়া ছাড়া আর কিছুই না। কলেজা লেহাপড়ার লাইগ্যা মুই সবার কাছে সাহায্য চাই।’

হাফিজুরের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. অলি উল্লাহ বলেন, হাফিজুর খুবই মেধাবী। তাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিলে ভবিষ্যতে অনেক ভালো করতে পারবে। তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ানোর অনুরোধ জানান।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন