ফুলবাড়ী কয়লাখনি

জিসিএমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করবে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ

বিজ্ঞাপন
default-image

বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী কয়লাখনিতে কার্যক্রম পরিচালনার বৈধ অনুমোদন নেই গ্লোবাল কোল ম্যানেজমেন্ট রিসোর্সেস পিএলসির (জিসিএম নামে পরিচিত)। কিন্তু ফুলবাড়ী প্রকল্পের কথা বলে প্রতিষ্ঠানটি জালিয়াতির মাধ্যমে বছরের পর বছর লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটে শেয়ার কেনাবেচা করছে। ‘বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ রক্ষায় জাতীয় কমিটি’ (এনসিবিডি) যুক্তরাজ্য শাখার এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ। গত মঙ্গলবার দেওয়া জবাবে এমন আশ্বাস দিয়েছে তারা।  

জিসিএমের কার্যক্রম বন্ধে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে আন্দোলন করে আসছে এনসিবিডিসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন। সম্প্রতি দেশটির লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ এবং ‘ফাইন্যান্সিয়াল কন্ডাক্ট অথরিটির (এফসিএ) কাছে লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি এক স্মারকলিপিতে জিসিএমের তালিকাভুক্তি বাতিলের আবেদন জানায় এনসিবিডি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, প্রস্তাবিত ফুলবাড়ী কয়লা ও বিদ্যুৎ প্রকল্প উন্নয়নে জিসিএমের কোনো বৈধ অনুমোদন বা লাইসেন্স নেই। কোম্পানির প্রস্তাবিত প্রকল্প স্থানীয় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিসাধনের পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণের জীবনযাপনে বিরূপ প্রভাব তৈরি করবে।

গত মঙ্গলবার লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেট নিয়ন্ত্রক বিভাগ (এআইএম রেগুলেশন্স) থেকে দেওয়া জবাবে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে থাকে এবং জিসিএমের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগও তদন্ত করবে। তবে পরিবেশ ও জনসাধারণের ওপর কোনো কোম্পানির কার্যক্রমের প্রভাব বিষয়ে ভূমিকা রাখার এখতিয়ার তাদের নেই জানিয়ে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে সমাধান চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে এআইএম রেগুলেশন্স।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জিসিএম লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটে (এআইএম) তালিকাভুক্ত একটি মাইনিং কোম্পানি। এটি দাবি করে যে ফুলবাড়ীতে তারা ৫৭২ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লার মজুত শনাক্ত করেছে। এখন তারা এই প্রকল্পের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এই কোম্পানি আগে এশিয়া এনার্জি নামে কার্যক্রম পরিচালনা করত।

২০০৬ সালে ফুলবাড়ী কয়লাখনি থেকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল। বিক্ষোভের সময় পুলিশের গুলিতে তিনজন নিহত হলে তৎকালীন বিএনপি সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছয় দফা চুক্তি করে। চুক্তির মূল বিষয় ছিল উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা যাবে না। এরপর থেকেই ঝুলে আছে জিসিএমের কার্যক্রম।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পরিবেশবাদীরা বলছেন, জিসিএমের প্রকল্পটি যদিও স্থগিত, তারপরও তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে শেয়ার কেনাবেচা করছে। কোনো চুক্তি না থাকার পরও বাংলাদেশের সম্পদ দেখিয়ে যুক্তরাজ্যের বাজার থেকে বিনিয়োগ সংগ্রহ করছে, যা অবৈধ।

নিজেদের ওয়েবসাইটে জিসিএম দাবি করেছে, ২০০৩ সালে এশিয়া এনার্জি নামে এটি প্রথম লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটে তালিকাভুক্ত হয়। তখন তারা বাজার থেকে ১৪ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিয়োগ সংগ্রহ করে। ২০০৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ফুলবাড়ী প্রকল্পের জন্য যে প্রস্তাব করেছিল, সেটির ভিত্তিতে তারা শেয়ারবাজার থেকে আরও ৩৩ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে। ২০০৬ সালের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ডামাডোলের কারণে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়। তবে ফুলবাড়ী প্রকল্প থেকে কয়লা উত্তোলনে সরকারের অনুমোদন পেতে তারা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন