বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জিডিতে বলা হয়, ‘গত বৃহস্পতিবার বরগুনা জেলা যুবলীগ আয়োজিত যুব সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নিই। রাত ৯টার দিকে সভাটি শেষ হলে স্থানীয় সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর কার্যালয়ে চা চক্রে মিলিত হই। পরে বামনার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়ে রাত ১০টার দিকে বড়ই ফেরিতে উঠি। ফেরিতে ওঠার পর ১৫ থেকে ২০ জন আমার গাড়ির আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করেন এবং আমার গাড়ি আক্রমণের চেষ্টা চালান। আমার সঙ্গে থাকা ছেলেরা তাঁদের অনেককে চিনে ফেলায় তাঁরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। আমার ধারণা, তাঁরা আমাকে হত্যার জন্য আক্রমণ করতে এসেছিল। তাঁদের গতিবিধি দেখে এমনটা মনে হয়।’

জিডিতে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি নাসিম, উপশিক্ষা ও পাঠচক্রবিষয়ক সম্পাদক সুমন রায়, সদস্য গোলাম রাব্বানি, ঢলুয়া ইউনিয়ন সভাপতি কামরুল, কর্মী শাজনুস শরীফ, ইমরান হোসেন, মুন্না, জুয়েল, মেহেদী, মো. সাইফুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়।

জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি নাসিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এসবের কিছুই জানি না। আমি তো তাঁকে ভালো করে চিনি না। আমি তো যুব সমাবেশের আশপাশেও ছিলাম না। ফেরিঘাট এলাকায় কোনো সিসিটিভি থাকলে তা চেক করলেই আমি সেখানে ছিলাম কি না, প্রমাণ হয়ে যাবে।’ উপশিক্ষা ও পাঠচক্রবিষয়ক সম্পাদক সুমন রায় বলেন, ‘যুব সমাবেশের দিন থেকেই আমি বরিশালে আছি। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।’

এ বিষয়ে সদস্য সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘জেলা যুবলীগের কমিটিতে আমরা অনিককে সাধারণ সম্পাদক বানাতে পারিনি। এ নিয়ে আমার প্রতি ক্ষোভ আছে। অনিকের ধারণা, আমি কমিটি বানিয়েছি, কিন্তু তাঁকে সেক্রেটারি বানাইনি। এটি নিয়ে আজেবাজে মন্তব্য করেন। ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে সাংসদ শম্ভু দাদার কাছ থেকে রওনা হই। কিছুক্ষণের মধ্যে ফেরিঘাটে পৌঁছাই। সেখানে ফেরির মধ্যে ও আশপাশের দোকানে বেশ কয়েকজন পোলাপানকে দেখতে পাই। আমাদের সঙ্গে পাথরঘাটা থানার একটি পিকআপ থাকায় তাঁরা সেখান থেকে চলে যান। আমার ওপর হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কায় জিডি করেছি। এ ছাড়া বিষয়টি শম্ভু দাদা ও পুলিশ সুপারকে জানালে তাঁরা জিডি করার পরামর্শ দেন।’

অভিযোগের বিষয়ে সদ্য ঘোষিত জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আদনান ওরফে অনিক বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তিনি একজন কেন্দ্রীয় নেতা, জেলা ছাত্রলীগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে তিনি এমনটা করছেন কি না, জানি না। তিনি আমাকে এ বিষয়ে আমাকে কিছুই বলেননি। এ ছাড়া তিনি কবে থেকে আওয়ামী লীগ করেন, তা বরগুনাবাসী জানে। এ ঘটনার জন্য আমি মর্মাহত। দ্রুত সভা করে ব্যবস্থা নেব। তবে বিষয়টি তিনি আমাকে জানাতে পারতেন বা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে জানাতে পারতেন। তিনি কার প্ররোচনায় এ কাজ করছেন, তা জানি না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন