পাবনার সেরা তিন রক্তদাতা ছিফাত রহমান (বামে), আসাদুজ্জামান ও খায়রুজ্জামান আহম্মেদ।
ছবি: সংগৃহীত

তাঁরা তিনজন শিক্ষক, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরিচিতি পেয়েছেন সেরা রক্তদাতা হিসেবে। রোগীর জীবন বাঁচাতে পাবনা শহরে রক্তের সন্ধানে থাকা মানুষের ডাকে সাড়া দিয়ে হাসপাতালে ছুটে যান। পঞ্চাশের বেশিসংখ্যক মানুষকে রক্ত দিয়েছেন তাঁরা।

রক্তদাতা তিনজনই সন্ধানী ডোনার ক্লাবের পাবনা জেলা ইউনিটের সদস্য। ক্লাবের সদস্য ও কর্মীদের মধ্যে তাঁরাই বেশিবার রক্ত দান করেছেন। এই তিনজন হলেন পাবনা সদরের শামসুল হুদা ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক আসাদুজ্জামান (৫১), স্থানীয় একটি পত্রিকার সাংবাদিক ছিফাত রহমান ও ব্যবসায়ী খায়রুজ্জামান আহম্মেদ। নিজেরা রক্তদানের পাশাপাশি তাঁরা এখন অন্যদেরও রক্তদানে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন।

সন্ধানী ডোনার ক্লাবের পাবনা জেলা ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সাব্বির হোসেন জানান, অনেকেই রক্তের সন্ধানে তাঁদের কাছে আসেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ২২ হাজার ব্যাগ রক্ত জোগাড় করে দিতে পেরেছেন তাঁরা।

ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, সেরা রক্তদাতাদের মধ্যে আসাদুজ্জামানের বাড়ি জেলা শহরের আতাইকুলায়। ১৯৮৯ সালে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষার্থী থাকার সময় থেকেই রক্তদানে উৎসাহিত হন। এ পর্যন্ত ৬৮ বার রক্ত দিয়ে মুমূর্ষু মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন।

রক্তদানে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না। বরং রক্ত দান করলে শরীরে নতুন রক্তকোষ তৈরি হয়।

ছিফাত রহমানের বাড়ি জেলা শহরের টাউনহল পাড়ায়। তিনি স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদক ও একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের জেলা প্রতিনিধি। ১৯৯০ সাল থেকে সন্ধানী ডোনার ক্লাবের সদস্য হন। এরপর থেকেই স্বেচ্ছায় রক্তদান শুরু করেন। এ পর্যন্ত ৬১ বার রক্ত দিয়েছেন। এ ছাড়া, খায়রুজ্জামান আহম্মেদ ক্লাবে যুক্ত হন ১৯৯১ সালে। তিনি রক্ত দিয়েছেন ৫০ বার।

খায়রুজ্জামান আহম্মেদ বলেন, ‘তুমি কি সেই তুমি, যার রক্তে আমি বেঁচে আছি?’—এমন একটি স্লোগানই তাঁকে রক্তদানে উৎসাহিত করেছিল। প্রতি ব্যাগ রক্তে মানুষের জীবন রক্ষা পাচ্ছে। বিষয়টি তাঁকে বেশ আনন্দ দেয়। তাই যত দিন বেঁচে থাকবেন, স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়ে যাবেন।

ক্লাবের তিন কর্মী বারবার রক্ত দিয়ে মানবপ্রেমের যে নিদর্শন রেখেছেন, তা অন্যদের জন্য উৎসাহের।
ইফতেখার মাহমুদ, সন্ধানী ডোনার ক্লাবের পাবনা ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি

অনেকেই রক্ত দিতে ভয় পান। রক্ত দেওয়ার পর শারীরিক সমস্যায় ভোগার আশঙ্কা করেন। ৬১ বার রক্ত দেওয়া সিফাত রহমান তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, রক্তদানে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না। তিনি কখনো কোনো সমস্যায় পড়েননি। বরং রক্ত দান করলে শরীরে নতুন রক্তকোষ তৈরি হয়। তিনি প্রথমবার রক্ত দিয়েছিলেন থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত এক শিশুকে। পরে শিশুটি সুস্থ হলে তার হাসিমুখ দেখেন তিনি, যা আজও মনে পড়ে সিফাতের।

ক্লাবের পাবনা ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ইফতেখার মাহমুদ বলেন, ক্লাবের তিন কর্মী বারবার রক্ত দিয়ে মানবপ্রেমের যে নিদর্শন রেখেছেন, তা অন্যদের জন্য উৎসাহের। স্বেচ্ছায় রক্তদানে অন্যরা এগিয়ে এলে অনেক মানুষ উপকৃত হবেন।