পাড়াবাসীর অভিযোগ, লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড রবারবাগান করার জন্য তাদের জুমের নবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক বনাঞ্চল পুড়িয়ে দিয়েছে। এতে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে এ ঘটনায় একটি মামলা হয় এবং লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

লাংকমপাড়া, জয়চন্দ্রপাড়া ও রেংয়েনপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, পাড়ার পশ্চিম কোণে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব পাশে ১৪টি শিরায় (ছোট পাহাড়) পুড়ে যাওয়া বিশাল বনাঞ্চলে কালো পোড়ামাটি ছাড়া কিছুই নেই। বাঁশবনের গোড়া থেকে কচি বাঁশ গজিয়ে উঠতে শুরু করেছে।

পাড়ার অধিবাসী চংরাও ম্রো বলেন, এখন জুমের মৌসুম শুরু হয়েছে। এই পোড়ামাটিতে ধান, তিল-তিসিসহ বিভিন্ন ফসলের বীজ বপনের সময়। বড়জোর দেড় সপ্তাহের মধ্যে বীজ বপন না করলে আর জুমচাষ হবে না।

ইংচ্যং ম্রো, যোসেফ ত্রিপুরা বলেন, জুমচাষের নিয়ম অনুযায়ী বৈশাখে বীজ বপন করতে পারলে ভালো। কিন্তু কোম্পানির লোকজনের ভয়ে তাঁরা পোড়ামাটিতে জুমচাষ দূরের কথা ঢুকতেও ভয় পাচ্ছেন। বনাঞ্চলে আগুন দেওয়ার আগে কোম্পানির লাঠিয়ালরা জমিতে ঢুকলে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এখন ইউনিয়ন সদরে ক্যজুপাড়া বাজারে যেতেও তাঁরা ভয় পাচ্ছেন।

রেংয়েনপাড়ার কার্বারি রেংয়েন ম্রো বলেছেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে পাড়াবাসীকে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। রেড ক্রিসেন্টের একটি দল বর্তমান সংকট মোকাবিলা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে গেছে। এ পর্যন্ত প্রতিটি পরিবার তিন মণের বেশি চাল, অন্যান্য সামগ্রী ও পাঁচ হাজারের মতো টাকা পেয়েছে। ত্রাণে আপাত সংকট মিটছে। কিন্তু জুমচাষ করতে না পারলে হিতাকাঙ্ক্ষীরা আর কত ত্রাণ দেবে?

লাংকমপাড়ার কার্বারি লাংকম ম্রো বলেছেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে পোড়া জায়গায় প্রবেশ না করতে বলা হয়েছে। ফলে একদিকে কোম্পানির লোকজনের ভয়, অন্যদিকে প্রশাসন থেকে নির্দেশ না পেয়ে জুমচাষ শুরু করা যাচ্ছে না। জুমচাষ করতে না পারলে মানুষের দেওয়া ত্রাণে টিকে থাকা সম্ভব নয়। তিন পাড়ায় আগে ৪৭টি পরিবার ছিল। দুই-তিন বছর ধরে কোম্পানির বাধার মুখে জুমচাষ করতে না পেরে ১১টি পরিবার পার্শ্ববর্তী পাড়ায় চলে গেছে।

তিন গ্রামের অধিবাসীদের এ অবস্থা তুলে ধরলে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালককে আহ্বায়ক ও লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সদস্যসচিব করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিতে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর প্রতিনিধি, রাবার স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। তাঁরা যত শিগগিরই সম্ভব প্রতিবেদন দেবেন। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ম্রো ও ত্রিপুরাদের জুমের জমির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন